গুয়াহাটি, ২৪ জুন (আইএএনএস): প্রতিবেশী অরুণাচল প্রদেশের লোয়ার সুবনসিরি জেলায় অতিভারী বৃষ্টি ও আকস্মিক বন্যার পরিপ্রেক্ষিতে অসম জুড়ে উচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। আগামী দু’দিনে রাজ্যের একাধিক নিম্নপ্রবাহ জেলার নদীগুলির জলস্তর উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন প্রশাসনিক কর্তারা।
বুধবার অসম সরকারের জারি করা এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, সুবনসিরি অববাহিকার উজান অঞ্চলে প্রবল বর্ষণের ফলে আকস্মিক বন্যা দেখা দিয়েছে এবং নদীতে জলপ্রবাহ হঠাৎ বেড়ে গিয়েছে। পরিস্থিতির উপর সরকার নিবিড় নজর রাখছে।
আঞ্চলিক আবহাওয়া কেন্দ্র (আরএমসি), গুয়াহাটি এবং আবহাওয়া কেন্দ্র, ইটানগরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় অরুণাচলের ইয়াজালি স্টেশনে ৭২.৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
প্রশাসন জানিয়েছে, বুধবার সকাল ৬টা থেকে ৯টার মধ্যে বৃষ্টির বড় অংশ হয়েছে। স্যাটেলাইট ও রাডার চিত্রে দেখা গিয়েছে, সকাল ৬টা থেকে সাড়ে ৭টার মধ্যে মুষলধারে বৃষ্টির ফলে আকস্মিক বন্যা এবং নদীর জলপ্রবাহে হঠাৎ বৃদ্ধি ঘটে।
এই বন্যার প্রভাব পড়েছে প্যানিওর লোয়ার জলবিদ্যুৎ প্রকল্প এলাকায়, যা আগে রঙ্গনদী জলবিদ্যুৎ প্রকল্প নামে পরিচিত ছিল।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জলাধারে হঠাৎ বিপুল পরিমাণ জল প্রবেশ করায় অতিরিক্ত জল ছাড়ার জন্য একটি স্পিলওয়ে গেট খুলে দেওয়া হয়েছে।
ইয়াজালি এলাকা থেকে পাওয়া রিপোর্টে জানা গেছে, হড়পা বানের সঙ্গে নেমে আসা ধ্বংসাবশেষের স্রোতে বহু বাড়িঘর ও পরিকাঠামোর ক্ষতি হয়েছে।
সরকারি সূত্রের মতে, প্রথম ধাক্কা লাগতে পারে অসমের ধেমাজি, লখিমপুর, বিশ্বনাথ এবং সোনিতপুর জেলায়। এরপর বন্যার ঢেউ পশ্চিম অসমের দিকে অগ্রসর হয়ে এক থেকে দু’দিনের মধ্যে ধুবরি জেলায় পৌঁছতে পারে।
মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা-র নির্দেশে মুখ্যসচিব রবি কোটা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেছেন এবং সংশ্লিষ্ট সমস্ত দফতরকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় থাকার নির্দেশ দিয়েছেন।
জেলা প্রশাসনগুলিকে সার্বক্ষণিক নজরদারি বজায় রাখতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (এসডিআরএফ), জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (এনডিআরএফ) এবং অন্যান্য জরুরি পরিষেবা সংস্থার দলগুলিকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিচু ও বন্যাপ্রবণ এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। জলমগ্ন এলাকায় না যাওয়া, এবং নদীর স্রোত বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কায় দেশি নৌকা ও ছোট জলযানে যাতায়াত এড়িয়ে চলার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
























