ঢাকা, ২৪ জুন (আইএএনএস): বাংলাদেশের গাইবান্ধা জেলার পলাশবাড়ী উপজেলায় অবস্থিত শ্রীশ্রী রাধাগোবিন্দ ও কালী মন্দির প্রাঙ্গণে ভগবান রামের বিশাল মূর্তি নির্মাণকাজ স্থগিত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংখ্যালঘু অধিকার রক্ষায় সরকারের প্রতিশ্রুতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, এই ঘটনা শুধু একটি স্থানীয় প্রকল্পের বিষয় নয়, বরং বাংলাদেশের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সংখ্যালঘু নিরাপত্তা সম্পর্কিত বৃহত্তর উদ্বেগের প্রতিফলন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মূর্তি নির্মাণ বন্ধের পেছনে কোনও আদালতের নির্দেশ বা সরকারি আদেশ ছিল না। নির্মাণকাজের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের দাবি, সম্ভাব্য উত্তেজনা ও নিরাপত্তা-সংক্রান্ত আশঙ্কার কারণেই কাজ স্থগিত করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনা-নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর হামলার শতাধিক ঘটনা নথিভুক্ত করেছে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ-সহ বিভিন্ন সংখ্যালঘু অধিকার সংগঠন।
রিপোর্টে বলা হয়েছে, ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের ধারে গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে নির্মীয়মাণ ৮১ ফুট উচ্চতার রামমূর্তির প্রায় ৮০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হলেও ১৩ জুনের পর থেকে তা আর এগোয়নি। স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের অনেকের কাছে এই থমকে যাওয়া নির্মাণকাজ ধর্মীয় স্বাধীনতার বাস্তব চিত্রের প্রতীক হয়ে উঠেছে।
মন্দির কমিটি দাবি করেছে, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার স্বার্থেই নির্মাণকাজ আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের একাংশ এই ব্যাখ্যাকে সন্দেহের চোখে দেখছে।
প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, স্থানীয় প্রশাসন ও মন্দির কর্তৃপক্ষের মধ্যে হওয়া আলোচনায় উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ার আগে নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। যদিও এ বিষয়ে কোনও লিখিত নির্দেশ জারি করা হয়নি এবং সরকারিভাবেও এমন কোনও আলোচনার কথা স্বীকার করা হয়নি।
এদিকে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনে জয়ের পর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারিক রহমান বলেছিলেন, “মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান—ধর্ম, মত বা জাতিগত পরিচয় নির্বিশেষে প্রত্যেক নাগরিকের জন্য নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে।”
মন্দির কমিটি নির্মাণকাজ পুনরায় শুরু করার অনুমতি চেয়ে প্রধানমন্ত্রীর সেই বক্তব্যেরই উল্লেখ করেছে। তাদের বক্তব্য, “ধর্ম ব্যক্তির, কিন্তু রাষ্ট্র সবার।”
রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, ঢাকার জগন্নাথ হল-এর শিক্ষার্থীরা শাহবাগে মিছিল করে রামমূর্তির নির্মাণকাজ পুনরায় শুরুর দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি আগের বিক্ষোভে রামমূর্তির অবমাননার অভিযোগে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি ওঠে।
বিশ্লেষকদের মতে, মূর্তিটি শেষ পর্যন্ত সম্পূর্ণ হবে, নাকি অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত থাকবে অথবা নীরবে সরিয়ে দেওয়া হবে—সেই সিদ্ধান্তই সংখ্যালঘু অধিকার ও সংখ্যাগরিষ্ঠ জনমতের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষায় বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করবে।
সাম্প্রতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, গাইবান্ধায় ভগবান রামের সম্ভাব্য সর্বোচ্চ মূর্তি নির্মাণের বিরোধিতায় হওয়া বিক্ষোভের সময় উগ্র ইসলামপন্থীদের দ্বারা রামের প্রতিকৃতি অবমাননার অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে।
সমালোচকদের অভিযোগ, ইসলামপন্থী গোষ্ঠীগুলির চাপের মুখেই মূর্তি নির্মাণকাজ স্থগিত করা হয়েছে। যদিও এ বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও মন্তব্য করা হয়নি।



















