রাষ্ট্রপুঞ্জ, ২৪ জুন (আইএএনএস): রাষ্ট্রপুঞ্জের একটি ফোরামে নিজেদের সহ-সভাপতির পদ ব্যবহার করে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কাশ্মীর ইস্যু তোলার অভিযোগে পাকিস্তানকে তীব্র ভর্ৎসনা করল ভারত। ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি পি হরিশ স্পষ্ট জানিয়ে দেন, জম্মু ও কাশ্মীর ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় এবং তা সবসময়ই ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল, আছে এবং থাকবে।
মঙ্গলবার রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদের এক অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে বক্তব্য রাখতে গিয়ে হরিশ বলেন, “জম্মু ও কাশ্মীর কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল সম্পূর্ণরূপে ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়। এটি সবসময় ভারতের অংশ ছিল, এখনও রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।”
তিনি আরও বলেন, “যে ব্যক্তি বা দেশ এই বৈঠকের সহ-সভাপতির দায়িত্বে রয়েছে, তার কাছ থেকে নিরপেক্ষতা ও ভারসাম্যপূর্ণ আচরণ প্রত্যাশিত। কিন্তু সেই অবস্থান ব্যবহার করে এই ফোরামকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে কাজে লাগানো অত্যন্ত বিস্ময়কর।”
“নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব বাস্তবায়নের ফাঁক পূরণ এবং আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষা” শীর্ষক এই বৈঠকটি যৌথভাবে আয়োজন করেছিল চীন ও পাকিস্তান। দুই দেশের রাষ্ট্রদূতই বৈঠকের সহ-সভাপতির ভূমিকা পালন করেন।
বৈঠকে পাকিস্তানের স্থায়ী প্রতিনিধি আসিম ইফতিখার আহমদ আবারও কাশ্মীর প্রসঙ্গ উত্থাপন করেন। এর জবাবে ভারত জানায়, রাষ্ট্রপুঞ্জের প্রস্তাব বাস্তবায়নের পথে আসল বাধা পাকিস্তান নিজেই।
ভারতের বক্তব্য অনুযায়ী, ১৯৪৮ সালের এপ্রিল মাসে গৃহীত রাষ্ট্রপুঞ্জ নিরাপত্তা পরিষদের ৪৭ নম্বর প্রস্তাবে পাকিস্তানকে কাশ্মীরের দখলকৃত অঞ্চল থেকে সেনা, নিরাপত্তা বাহিনী এবং সাধারণ নাগরিকদের প্রত্যাহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ইসলামাবাদ সেই নির্দেশ মানেনি।
ভারত আরও দাবি করে, পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরের বাসিন্দারা বর্তমানে বিক্ষোভে শামিল হয়েছেন এবং পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনী সেই আন্দোলন দমন করতে বলপ্রয়োগ করছে। ভারতের অভিযোগ, চলতি মাসেই সেখানে অন্তত ২০ জন নিহত হয়েছেন।
উল্লেখ্য, এই বৈঠকটি ছিল ‘আরিয়া ফর্মুলা’ বৈঠক, যা নিরাপত্তা পরিষদের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার বাইরে সদস্য রাষ্ট্র, বিশেষজ্ঞ এবং বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিদের মতামত শোনার জন্য আয়োজিত হয়। ভেনেজুয়েলার কূটনীতিক ডিয়েগো আরিয়া এই পদ্ধতির সূচনা করেছিলেন।
বৈঠকে ভারতের প্রতিনিধি রাষ্ট্রপুঞ্জের চলমান ‘ইউএন৮০’ সংস্কার প্রক্রিয়ার প্রসঙ্গও তোলেন। তিনি বলেন, রাষ্ট্রপুঞ্জের ৮০ বছর পূর্তি উপলক্ষে সংস্থার কার্যকারিতা বাড়ানোর লক্ষ্যে বিভিন্ন ম্যান্ডেট পর্যালোচনা করা হচ্ছে। সেই প্রেক্ষাপটে নিরাপত্তা পরিষদের ম্যান্ডেটগুলিও পুনর্বিবেচনার আওতায় আনা উচিত।
হরিশ বলেন, “যখন সাধারণ পরিষদের ম্যান্ডেটগুলি ইউএন৮০ কাঠামোর অধীনে পর্যালোচনা করা হচ্ছে, তখন নিরাপত্তা পরিষদের ম্যান্ডেটগুলি কেন সেই প্রক্রিয়ার বাইরে থাকবে, তার কোনও যুক্তি নেই।”
তিনি রাষ্ট্রপুঞ্জ সনদের ষষ্ঠ অধ্যায়ে উল্লেখিত মধ্যস্থতা ও আলোচনার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির ব্যবস্থাগুলিরও পুনর্মূল্যায়নের প্রস্তাব দেন। তাঁর মতে, সময় ও পরিস্থিতির পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে পুরনো মধ্যস্থতা কাঠামোর কার্যকারিতা পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন।
ফিলিস্তিন সমস্যার উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, কয়েক দশক ধরে বিভিন্ন মধ্যস্থতা উদ্যোগ নেওয়া হলেও এখনও স্থায়ী সমাধান মেলেনি। তাই পুরনো ও অপ্রাসঙ্গিক কাঠামোগুলির পুনর্মূল্যায়নের যথেষ্ট প্রয়োজন রয়েছে।



















