শ্রীনগর, ২৪ জুন (আইএএনএস): জম্মু ও কাশ্মীরের শ্রীনগরে বুধবার মহররম উপলক্ষে শতাধিক শিয়া মুসলিম শোকমিছিলে অংশ নেন। শান্তিপূর্ণভাবে মিছিল সম্পন্ন করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
গুরু বাজার থেকে শুরু হওয়া এই শোকমিছিল ডালগেট এলাকায় গিয়ে শেষ হয়। মিছিলের পথে কালো পতাকায় সজ্জিত রাস্তার ধারে স্বেচ্ছাসেবীরা পানীয় জল ও অন্যান্য সতেজ পানীয় বিতরণের জন্য অস্থায়ী শিবির স্থাপন করেন।
কালো পোশাক পরিহিত বিপুল সংখ্যক শোকাহত মানুষ ইসলাম ধর্মের মহানবী হজরত মুহাম্মদের (সা.) নাতি ইমাম হুসাইনের শাহাদত স্মরণে মাতম করেন এবং বুক চাপড়ে শোক প্রকাশ করেন।
মিছিলের রুটজুড়ে স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে অস্থায়ী চিকিৎসা শিবিরও খোলা হয়, যাতে অংশগ্রহণকারীদের প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করা যায়। শোকযাত্রায় অংশগ্রহণকারীরা কারবালার শহিদদের স্মরণে মার্সিয়া ও শোকগাথা পাঠ করেন।
শৃঙ্খলাবদ্ধভাবে মিছিলটি বুদশাহ চক, মৌলানা আজাদ রোড হয়ে ডালগেটে পৌঁছায়।
মিছিল নির্বিঘ্ন করতে ট্রাফিক বিভাগ বিশেষ যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গ্রহণ করে। শোকযাত্রার জন্য নির্দিষ্ট রাস্তাগুলি যানবাহনমুক্ত রাখা হয় এবং বাইরের এলাকা থেকে আগতদের জন্য বিকল্প পথের ব্যবস্থা করা হয়। এছাড়া বাটমালু-সহ বিভিন্ন স্থানে বিশেষ পার্কিংয়ের ব্যবস্থাও করা হয়।
পুরো কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয় এবং কোনও অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে শীর্ষ প্রশাসনিক ও পুলিশ আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন।
১৯৯০-এর দশকে কাশ্মীরে সন্ত্রাসবাদ শুরু হওয়ার পর দীর্ঘ সময় ধরে মহররমের ঐতিহ্যবাহী শোকমিছিলের উপর নিষেধাজ্ঞা ছিল। তবে সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতির ফলে গত তিন বছর ধরে প্রশাসন আবার এই মিছিলের অনুমতি দিচ্ছে।
শিয়া মুসলিমদের বিশ্বাস অনুযায়ী, ইমাম হুসাইন কুফার জনগণের আমন্ত্রণে শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে তাঁর পরিবার ও অনুগামীদের নিয়ে সেখানে যাত্রা করেছিলেন। কিন্তু কারবালায় ইউফ্রেটিস নদীর তীরে ইয়াজিদের বাহিনী তাঁদের অবরুদ্ধ করে এবং এমনকি শিশুদের কাছেও পানীয় জল পৌঁছাতে দেয়নি। অন্যায়ের কাছে আত্মসমর্পণ না করে ইমাম হুসাইন শাহাদত বরণ করেন এবং সত্যের বিজয়ের ইতিহাস রচনা করেন।
কারবালার যুদ্ধ ইসলামের ইতিহাসের এক অত্যন্ত মর্মান্তিক ঘটনা। ৬৮০ খ্রিস্টাব্দের ১০ অক্টোবর (১০ মহররম, ৬১ হিজরি) বর্তমান ইরাকের ইউফ্রেটিস নদীর তীরবর্তী কারবালার প্রান্তরে এই যুদ্ধ সংঘটিত হয়। সেখানে ইমাম হুসাইন ইবনে আলি এবং তাঁর অল্পসংখ্যক সঙ্গী উমাইয়া খলিফা ইয়াজিদের বিশাল বাহিনীর হাতে শহিদ হন।
যদিও মহররমে শিয়া মুসলিমরা বিশেষভাবে শোকমিছিলের আয়োজন করেন, ইমাম হুসাইনের শাহাদতের স্মরণ সুন্নি ও শিয়া—উভয় সম্প্রদায়ের মুসলিমদের কাছেই সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
সূত্র: আইএএনএস



















