ভোপাল, ২২ জুন : মধ্যপ্রদেশের কুনো জাতীয় উদ্যান সফর শেষে ‘চিতা মিত্র’ এবং সাহারিয়া জনজাতির সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। এ সময় তিনি ‘প্রজেক্ট চিতা’-র সাফল্যে তাঁদের অবদানের জন্য বিশেষভাবে প্রশংসা করেন।
সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে, রবিবার রাষ্ট্রপতি কুনো জাতীয় উদ্যান পরিদর্শন করেন এবং চিতা ব্যবস্থাপনা এলাকা ঘুরে দেখেন। সেখানে তাঁকে ‘প্রজেক্ট চিতা’-র অগ্রগতি সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে অবহিত করা হয়।
গত বছরের নভেম্বর মাসে বতসোয়ানা সফরের সময় রাষ্ট্রপতি মুর্মু আটটি চিতা ভারতের হাতে প্রতীকীভাবে হস্তান্তরের সাক্ষী ছিলেন। পরে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে ওই চিতাগুলি কুনো জাতীয় উদ্যানে আনা হয়।
সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘প্রজেক্ট চিতা’ ভারতের জীববৈচিত্র্য পুনরুদ্ধারের প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন। দেশের মাটিতে বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া চিতাকে পুনরায় প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে।
এদিকে, সম্প্রতি কেন্দ্রীয় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব ‘প্রজেক্ট চিতা’-র অগ্রগতি পর্যালোচনা করে বনকর্মী ও সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের প্রশংসা করেন। বর্তমানে ভারতে মোট চিতার সংখ্যা ৫৩-তে পৌঁছেছে, যার মধ্যে ৩৩টির জন্ম হয়েছে দেশেই।
পর্যালোচনা বৈঠকে যাদব বলেন, “আনা চিতা এবং তাদের শাবকদের বেঁচে থাকার হার আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সমতুল্য, এমনকি কিছু ক্ষেত্রে তার চেয়েও ভালো। এটি বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনা ও পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার কার্যকারিতার প্রমাণ।”
তিনি জানান, প্রকল্পের দীর্ঘমেয়াদি সাফল্যের জন্য ‘ল্যান্ডস্কেপ-ভিত্তিক’ কৌশল গ্রহণ করা হয়েছে। কুনো জাতীয় উদ্যানকে চিতা সংরক্ষণের প্রধান কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে। পাশাপাশি আরও বিস্তারের লক্ষ্যে গান্ধীসাগর বন্যপ্রাণ অভয়ারণ্যকে অতিরিক্ত আবাসস্থল হিসেবে প্রস্তুত করা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী আরও বলেন, মধ্য ভারতের বৃহত্তর সংযুক্ত বাস্তুতন্ত্রের অংশ হিসেবে এই এলাকাগুলি চিতাদের বিচরণ এবং জিনগত বৈচিত্র্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
এছাড়া গুজরাটের বান্নি তৃণভূমিতেও প্রকল্প সম্প্রসারণের প্রস্তুতি চলছে। সেখানে চিতার উপযোগী আবাসস্থল তৈরি এবং শিকার প্রাণীর সংখ্যা বৃদ্ধির কাজ সন্তোষজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
প্রজেক্ট চিতার অগ্রগতি এবং ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নির্ধারণের উদ্দেশ্যে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে পরিবেশ মন্ত্রকের শীর্ষ আধিকারিক, প্রকল্প বিশেষজ্ঞ এবং বন বিভাগের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সূত্র: আইএএনএস



















