চেন্নাই, ২২ জুন (আইএএনএস): মাদক পাচার ও নিষিদ্ধ নেশাজাত দ্রব্যের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান চালিয়ে এক সপ্তাহে ৭৭ জনকে গ্রেফতার করেছে গ্রেটার চেন্নাই পুলিশ। এই সময়ের মধ্যে ৩৮টি ফৌজদারি মামলা রুজু করা হয়েছে এবং বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য, নগদ অর্থ ও একাধিক যানবাহন বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ১৪ জুন থেকে ২০ জুন পর্যন্ত এই বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়। চেন্নাই পুলিশ কমিশনার এ. অমলরাজের নির্দেশে শহরজুড়ে মাদকবিরোধী অভিযান আরও জোরদার করা হয়।
চেন্নাইয়ের ১২টি পুলিশ জেলার বিভিন্ন এলাকায় নজরদারি বৃদ্ধি, যানবাহন তল্লাশি এবং মাদক মজুত, পরিবহণ ও বিক্রির সঙ্গে যুক্ত সন্দেহভাজনদের বিরুদ্ধে লক্ষ্যভিত্তিক অভিযান চালানো হয়। মাদক সরবরাহ চক্র ভেঙে দেওয়া এবং শহরের ক্রমবর্ধমান মাদক নেটওয়ার্কের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করাই ছিল এই অভিযানের মূল উদ্দেশ্য।
পুলিশের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, অভিযানে ২২ কেজি গাঁজা, ৮৩১ গ্রাম মেথামফেটামিন, ৬ মিলিগ্রাম আফিম, ২ মিলিগ্রাম কোকেন এবং ১,২২২টি মাদকজাত ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে।
চেন্নাই মেট্রোপলিটন এলাকায় অবৈধ মাদক পাচারের বিরুদ্ধে চলমান অভিযানে এটিকে উল্লেখযোগ্য সাফল্য বলে দাবি করেছে পুলিশ।
মাদকদ্রব্যের পাশাপাশি পাচারে ব্যবহৃত বলে সন্দেহভাজন একাধিক যানবাহনও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে চারটি মোটরবাইক, একটি অটোরিকশা, একটি গাড়ি এবং পাঁচটি মোবাইল ফোন। তদন্তকারীদের ধারণা, এসব মোবাইল ফোনের মাধ্যমে অভিযুক্তরা ক্রেতা ও সরবরাহকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করত।
পুলিশ জানিয়েছে, এই অভিযানের সাফল্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে অ্যান্টি-নারকোটিক্স ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (এএনআইইউ)। বিশেষ এই ইউনিট শহরে সক্রিয় মাদক কারবারি ও পাচার চক্র সম্পর্কে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করে, যার ভিত্তিতে পুলিশ বিভিন্ন অভিযানে নেমে একাধিক অভিযুক্তকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে।
গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানাগুলিতে মামলা দায়ের করে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
উল্লেখ্য, গ্রেটার চেন্নাই পুলিশের বৃহত্তর মাদকবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবেই এই বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়েছে। মাদকের পাশাপাশি গুটখা, মাওয়া-সহ নিষিদ্ধ তামাকজাত পণ্যের বিরুদ্ধেও অভিযান চলছে।
পুলিশ কর্তারা জানিয়েছেন, মাদক-সংক্রান্ত অপরাধের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতেও কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িতদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ও আর্থিক সম্পদ জব্দ করার প্রক্রিয়াও শুরু করা হবে, যাতে সংঘবদ্ধ মাদক চক্রের আর্থিক ভিত ভেঙে দেওয়া যায়।
চেন্নাই পুলিশ সাধারণ মানুষের কাছেও সহযোগিতার আবেদন জানিয়েছে। মাদক পাচার সংক্রান্ত কোনও তথ্য থাকলে তা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানোর অনুরোধ করা হয়েছে, যাতে শহরকে মাদকমুক্ত রাখতে যৌথভাবে কাজ করা যায়।
_______
























