ওয়াশিংটন, ১৮ জুন (আইএএনএস): ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বৈঠক ভারত-আমেরিকা সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন আশাবাদের সঞ্চার করেছে। ব্যবসায়িক মহল এবং প্রবাসী সম্প্রদায়ের নেতারা বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ক্ষেত্রে দুই দেশের ক্রমবর্ধমান সহযোগিতার কথা তুলে ধরেছেন।
ইউএস-ইন্ডিয়া স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ ফোরামের সভাপতি মুকেশ আঘি বলেন, দুই নেতার এই বৈঠক “অগ্রগতির একটি স্পষ্ট পথ নির্দেশ করেছে”।
তিনি বলেন, “ওয়াশিংটন ও নয়াদিল্লি উভয়ই বাণিজ্য চুক্তির চূড়ান্ত রূপ দিতে আন্তরিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। গত এক বছরেরও বেশি সময় ধরে মন্ত্রী এবং আমলাস্তরে একাধিক দফা আলোচনা হয়েছে। সামগ্রিকভাবে পরিস্থিতি ইতিবাচক বলেই মনে হচ্ছে।”
আঘি আরও জানান, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিকট ভবিষ্যতে ভারত সফরে সম্মত হয়েছেন। তাঁর মতে, “নয়াদিল্লিতে কোয়াড বৈঠক শুধুমাত্র বিদেশমন্ত্রী পর্যায়ে সীমাবদ্ধ থাকার পর এটি একটি ইতিবাচক বার্তা।”
প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে যৌথ উপস্থিতিতে ট্রাম্পও দুই নেতার ব্যক্তিগত সম্পর্ক এবং ভারত-আমেরিকার অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
ট্রাম্প বলেন, “তিনি (মোদি) আমেরিকায় প্রচুর বিনিয়োগ করছেন, ফলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে। আমরা তার জন্য কৃতজ্ঞ। তিনি দীর্ঘদিনের বন্ধু এবং আমাদের সম্পর্ক সবসময়ই খুব ভালো ছিল।”
বৈঠক-পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় প্রতিরক্ষা সহযোগিতার বিষয়টিও বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।
মুকেশ আঘি বলেন, “ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের কৌশলগত অগ্রাধিকারের কারণে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে রয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “ওমান উপসাগরে ভারতীয় নাবিকদের ওপর দুর্ভাগ্যজনক হামলার পর উভয় গণতান্ত্রিক দেশই সামুদ্রিক নিরাপত্তা এবং নৌ-চলাচলের স্বাধীনতার ওপর জোর দিচ্ছে।”
এদিকে, প্রধানমন্ত্রী মোদির নেতৃত্বে ভারতের প্রতি আমেরিকার প্রতিশ্রুতি নিয়ে ট্রাম্পের মন্তব্যও বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে।
ট্রাম্প বলেন, “যদি কেউ ওই ব্যক্তির (মোদি) ওপর আক্রমণ করে, আমরা পাশে থাকব। তিনি যদি নেতা থাকেন এবং ভারত আক্রান্ত হয়, তাহলে আমরা সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসব।”
অন্যদিকে, ‘সিখস অব আমেরিকা’-র সম্প্রদায় নেতা জসদীপ সিং জাসি বৈঠকের ইতিবাচক পরিবেশকে স্বাগত জানিয়েছেন।
এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী মোদিকে নিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মন্তব্য দুই নেতার ব্যক্তিগত আস্থা ও বন্ধুত্বের প্রতিফলন, যা দুই গণতান্ত্রিক দেশের সহযোগিতা আরও এগিয়ে নিতে সাহায্য করেছে। প্রয়োজনে ভারতের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি ভারতীয়-আমেরিকান এবং শিখ সম্প্রদায়ের বহু মানুষের কাছে ইতিবাচক বার্তা হিসেবে পৌঁছাবে।”
তিনি আরও বলেন, “বাণিজ্য চুক্তি, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে আরও সক্রিয় অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে যে ইতিবাচক অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে, তা আমাদের উৎসাহিত করছে। এসব উদ্যোগ দুই দেশের জন্যই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও উদ্ভাবনের নতুন সুযোগ তৈরি করবে।”
_______



















