আগরতলা, ১৫ জুন: উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলওয়ের (এনএফআর) বিরুদ্ধে চরম গাফিলতির অভিযোগ তুলে সোমবার সকালে জিরানিয়া রেলস্টেশনে বিক্ষোভে সামিল হন নিত্যযাত্রীরা। পর্যাপ্ত বগির অভাব ও অতিরিক্ত যাত্রীচাপের জেরে ক্ষুব্ধ যাত্রীরা আগরতলা-করিমগঞ্জ এবং ধর্মনগর-আগরতলা রুটের দুটি যাত্রীবাহী ট্রেন অবরোধ করে রাখেন। প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে চলা এই অবরোধের জেরে ট্রেন চলাচল ব্যাহত হয়। পরে রেল কর্তৃপক্ষের আশ্বাসের পর সকাল ১০টা ১২ মিনিট নাগাদ অবরোধ প্রত্যাহার করা হলে ট্রেনটি গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়।
জানা গেছে, অন্যান্য দিনের মতো সোমবার সকালেও আগরতলা থেকে করিমগঞ্জগামী যাত্রীবাহী ট্রেনটি মাত্র পাঁচটি বগি নিয়ে সকালেই যাত্রা শুরু করে। আগরতলা স্টেশন থেকেই ট্রেনটি ছিল যাত্রীতে ঠাসা। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, অনেক যাত্রী বগির ভেতরে জায়গা না পেয়ে ইঞ্জিনের ওপর পর্যন্ত উঠে পড়েন।
ট্রেনটি যোগেন্দ্রনগর হয়ে জিরানিয়া স্টেশনে পৌঁছানোর পর দেখা যায়, সেখানে অপেক্ষমাণ বহু যাত্রী ট্রেনে উঠতে পারছেন না। আগে থেকেই প্রতিটি বগি উপচে পড়া ভিড়ে পূর্ণ থাকায় টিকিট কেটে অপেক্ষা করেও যাত্রীরা ট্রেনে উঠতে ব্যর্থ হন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন যাত্রীরা এবং করিমগঞ্জগামী ট্রেনটি আটকে দেন। একই সঙ্গে ধর্মনগর থেকে আগরতলাগামী যাত্রীবাহী ট্রেনটিকেও জিরানিয়া স্টেশনে অবরুদ্ধ করা হয়।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসে পুলিশ ও জিআরপি কর্তৃপক্ষ। তারা বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আলোচনা শুরু করলেও দীর্ঘ সময় ধরে অবরোধ চলতে থাকে।
অবরোধের ফলে দুই দিকের নিত্যযাত্রীদের পাশাপাশি সরকারি কর্মচারীরাও চরম ভোগান্তির শিকার হন। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, রেল কর্তৃপক্ষ যাত্রীসংখ্যার তুলনায় পর্যাপ্ত বগির ব্যবস্থা না করায় প্রতিদিনই যাত্রীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। তাদের দাবি, ট্রেনে বগির সংখ্যা বাড়ানো হলে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হতো না।
বিক্ষোভকারীরা জানান, সমস্যার স্থায়ী সমাধান এবং পর্যাপ্ত বগি সংযোজনের আশ্বাস না পাওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন প্রত্যাহার করবেন না। অবরোধকারীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই আগরতলা-করিমগঞ্জ রুটে পর্যাপ্ত বগি না দিয়ে ট্রেন চালানো হচ্ছে। অথচ বিপুল সংখ্যক টিকিট বিক্রি করা হলেও যাত্রীদের জন্য ন্যূনতম দাঁড়ানোর জায়গাও নিশ্চিত করা হচ্ছে না।
এক ক্ষুব্ধ যাত্রী বলেন, এটা আজকের সমস্যা নয়। প্রতিদিনই ট্রেনে যাতায়াতকারী মানুষকে একই দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে। রেল কর্তৃপক্ষ হাজার হাজার টিকিট বিক্রি করছে, কিন্তু যাত্রীদের জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রাখছে না। বাধ্য হয়েই আমরা ট্রেন আটকে প্রতিবাদে নেমেছি। যাত্রীদের আরও অভিযোগ, সোমবার ট্রেনটি স্বাভাবিকের তুলনায় কম সংখ্যক বগি নিয়ে আগরতলা থেকে ছাড়ায়। এর ফলে আসন সংকট তীব্র আকার ধারণ করে এবং বহু যাত্রী গন্তব্যে যেতে পারেননি।
ওই ঘটনার জেরে জিরানিয়া স্টেশনে দীর্ঘ সময় ট্রেন আটকে থাকায় যাত্রীদের মধ্যে চরম ভোগান্তির সৃষ্টি হয়। তবে অবশেষে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ট্রেনটি করিমগঞ্জের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়।



















