আগরতলা, ১৫ জুন: উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলওয়ের (এনএফআর) বিরুদ্ধে চরম গাফিলতির অভিযোগ তুলে সোমবার সকালে জিরানিয়া রেলস্টেশনে বিক্ষোভে সামিল হন নিত্যযাত্রীরা। পর্যাপ্ত বগির অভাব ও অতিরিক্ত যাত্রীচাপের জেরে ক্ষুব্ধ যাত্রীরা আগরতলা-করিমগঞ্জ এবং ধর্মনগর-আগরতলা রুটের দুটি যাত্রীবাহী ট্রেন অবরোধ করে রাখেন।
জানা গেছে, অন্যান্য দিনের মতো সোমবার সকালেও আগরতলা থেকে করিমগঞ্জগামী যাত্রীবাহী ট্রেনটি মাত্র পাঁচটি বগি নিয়ে সকালেই যাত্রা শুরু করে। আগরতলা স্টেশন থেকেই ট্রেনটি ছিল যাত্রীতে ঠাসা। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, অনেক যাত্রী বগির ভেতরে জায়গা না পেয়ে ইঞ্জিনের ওপর পর্যন্ত উঠে পড়েন।
ট্রেনটি যোগেন্দ্রনগর হয়ে জিরানিয়া স্টেশনে পৌঁছানোর পর দেখা যায়, সেখানে অপেক্ষমাণ বহু যাত্রী ট্রেনে উঠতে পারছেন না। আগে থেকেই প্রতিটি বগি উপচে পড়া ভিড়ে পূর্ণ থাকায় টিকিট কেটে অপেক্ষা করেও যাত্রীরা ট্রেনে উঠতে ব্যর্থ হন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন যাত্রীরা এবং করিমগঞ্জগামী ট্রেনটি আটকে দেন। একই সঙ্গে ধর্মনগর থেকে আগরতলাগামী যাত্রীবাহী ট্রেনটিকেও জিরানিয়া স্টেশনে অবরুদ্ধ করা হয়।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসে পুলিশ ও জিআরপি কর্তৃপক্ষ। তারা বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আলোচনা শুরু করলেও দীর্ঘ সময় ধরে অবরোধ চলতে থাকে।
অবরোধের ফলে দুই দিকের নিত্যযাত্রীদের পাশাপাশি সরকারি কর্মচারীরাও চরম ভোগান্তির শিকার হন। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, রেল কর্তৃপক্ষ যাত্রীসংখ্যার তুলনায় পর্যাপ্ত বগির ব্যবস্থা না করায় প্রতিদিনই যাত্রীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। তাদের দাবি, ট্রেনে বগির সংখ্যা বাড়ানো হলে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হতো না।
বিক্ষোভকারীরা জানান, সমস্যার স্থায়ী সমাধান এবং পর্যাপ্ত বগি সংযোজনের আশ্বাস না পাওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন প্রত্যাহার করবেন না। সংবাদ লেখা পর্যন্ত সকাল ১০টা ১০ মিনিটে জিরানিয়া স্টেশনে দুটি যাত্রীবাহী ট্রেন অবরুদ্ধ অবস্থায় ছিল।



















