গ্বালিয়র, ১৪ জুন (আইএএনএস): দীর্ঘ ১৭ ঘণ্টার উদ্ধার অভিযানের পর মধ্যপ্রদেশের গ্বালিয়রের তিঘরা বাঁধে ডুবে যাওয়া দ্বিতীয় এমবিবিএস পড়ুয়ার দেহ রবিবার উদ্ধার করা হয়েছে।
শনিবার সন্ধ্যায় বন্ধুদের সঙ্গে পিকনিকে গিয়ে তিঘরা বাঁধের গভীর জলে ডুবে মৃত্যু হয় আয়ুষ শ্রীবাস্তব এবং গোপাল আগরওয়াল-এর। তাঁরা দু’জনেই গজারা রাজা মেডিকেল কলেজ-এর দ্বিতীয় বর্ষের এমবিবিএস ছাত্র ছিলেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, আয়ুষ বিহারের মুজফ্ফরপুরের বাসিন্দা ছিলেন এবং গোপাল মধ্যপ্রদেশের সাগর জেলার বিনা এলাকার বাসিন্দা।
ঘটনাটি ঘটে বাঁধের ‘কাচ্চি পার’ এলাকায়, যা বোট ক্লাব থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে অবস্থিত একটি নিষিদ্ধ অঞ্চল। সাধারণ মানুষের প্রবেশ সেখানে অনুমোদিত নয়।
পুলিশ জানিয়েছে, চার জন ছাত্র এবং চার জন ছাত্রী-সহ মোট আট জন মেডিক্যাল পড়ুয়া পিকনিক করতে সেখানে গিয়েছিলেন। আয়ুষ ও গোপাল জলে নামার পর পাথরে পিছলে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ ফুট গভীর জলে তলিয়ে যান।
দীর্ঘক্ষণ ফিরে না আসায় তাঁদের সহপাঠীরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে পাথুরে তীরে দু’জনের জুতো ও পোশাক সুন্দরভাবে রাখা অবস্থায় দেখতে পেয়ে তাঁরা পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।
খবর পেয়ে তিঘরা থানার পুলিশ, সিএসপি কৃষ্ণপাল সিং এবং থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক শিবরাম সিং কাশনা ঘটনাস্থলে পৌঁছন।
এরপর রাজ্য দুর্যোগ প্রতিক্রিয়া বাহিনী-এর সদস্য এবং স্থানীয় ডুবুরিদের নিয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু হয়। বাঁধের গভীর জল, কাদা এবং পাথুরে তলদেশের কারণে উদ্ধারকাজে যথেষ্ট বেগ পেতে হয়। রাতভর নৌকা এবং উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন আলোর সাহায্যে অভিযান চালানো হয়।
শনিবার গভীর রাতে গোপাল আগরওয়ালের দেহ উদ্ধার করা হয়। অন্যদিকে আয়ুষ শ্রীবাস্তবের খোঁজে প্রায় ১৭ ঘণ্টা ধরে অভিযান চলার পর রবিবার দুপুরে তাঁর দেহ উদ্ধার হয়।
পুলিশের দাবি, দুই ছাত্রই নিষিদ্ধ ‘কাচ্চি পার’ এলাকায় প্রবেশ করেছিলেন।
ঘটনার খবর মৃতদের পরিবারকে জানানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য দেহ দু’টি পাঠানো হয়েছে এবং ঘটনার তদন্ত চলছে।



















