আগরতলা: ত্রিপুরায় ভোজ্য তেল উৎপাদনে স্বনির্ভরতার লক্ষ্যকে সামনে রেখে রাজ্য সরকার অয়েল পামচাষ সম্প্রসারণে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। কিল্লা কৃষি মহকুমায় “মেগা অয়েল পাম প্ল্যান্টেশন প্রোগ্রাম”এর উদ্বোধনকালে রাজ্যের কৃষি ও কৃষক কল্যাণ মন্ত্রী রতন লাল নাথ এই তথ্য জানান।
মন্ত্রী বলেন, ভারত বিভিন্ন কৃষিপণ্যে যেমন ধান, হলুদ, এলাচ, মরিচ, কলা, আম ও মিলেট উৎপাদনে শীর্ষস্থানীয় হলেও ভোজ্য তেলের ক্ষেত্রে এখনও উল্লেখযোগ্য ঘাটতি রয়ে গেছে। সরিষা, তিল, সয়াবিন, নারকেল ও সূর্যমুখী থেকে তেল উৎপাদন হলেও দেশের মোট চাহিদার প্রায় ৪৭ শতাংশই পূরণ হয় দেশীয় উৎপাদনে। ফলে বিপুল পরিমাণ ভোজ্য তেল আমদানি করতে হয়, যার জন্য প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় হয়।
তিনি আরও জানান, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘পাম অয়েল মিশন’-এর মাধ্যমে দেশকে ভোজ্য তেলে স্বনির্ভর করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। বিশেষ করে উত্তর-পূর্ব ও দক্ষিণ ভারতের জলবায়ু ও মাটি তেলপাম চাষের জন্য অনুকূল হওয়ায় এই অঞ্চলগুলিতে এর উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বাজারে পাম তেলের দামের ওঠানামা ও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার কথাও তিনি উল্লেখ করেন। সরকারের পক্ষ থেকে কৃষকদের জন্য বিভিন্ন সহায়তার বিষয়টিও তুলে ধরেন মন্ত্রী।
তিনি জানান, অয়েল পাম চারা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে প্রদান করা হচ্ছে। পাশাপাশি জমি প্রস্তুত ও চাষের সুবিধার্থে এককালীন সহায়তা হিসেবে ঝোপ পরিষ্কারের জন্য ৩,০০০ টাকা, প্রতি হেক্টরে টেরেস তৈরির জন্য ৪,০০০ টাকা এবং বেড়া দেওয়ার জন্য ৪,০০০ টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
মন্ত্রী বলেন, রাজ্যের মূল লক্ষ্য হলো ভোজ্য তেলে স্বনির্ভরতা অর্জন। কৃষকদের উৎসাহিত করতে সরকার সব ধরনের প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করছে।
তিনি আরও জানান, ২০১২ সালে কেন্দ্রীয় সরকার ৭,০০০ হেক্টর জমিতে তেলপাম চাষের সিদ্ধান্ত নিলেও তৎকালীন রাজ্য সরকার তেমন অগ্রগতি দেখায়নি। তবে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে দ্রুত অগ্রগতি হয়েছে এবং ইতিমধ্যে ৩,৫০০ হেক্টরের বেশি জমিতে তেলপাম চাষ সম্প্রসারিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ত্রিপুরা বিধানসভার অধ্যক্ষ রামপদ জমাতিয়া, বিধায়ক অভিষেক দেবরায়, জিতেন্দ্র মজুমদারসহ কৃষি দফতরের অন্যান্য আধিকারিকরা।
———-























