নয়াদিল্লি, ১২ জুন: উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলির মুখ্যমন্ত্রী ও মুখ্যসচিবদের নিয়ে নীতি আয়োগ আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ আন্তঃক্রিয়ামূলক বৈঠকে অংশগ্রহণ করে ত্রিপুরার উন্নয়ন সংক্রান্ত বিভিন্ন অগ্রাধিকারমূলক বিষয় তুলে ধরলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন নীতি আয়োগের ভাইস-চেয়ারম্যান অশোক কুমার লাহিড়ী এবং সংস্থার অন্যান্য সদস্যরা।
বৈঠকে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী নীতি আয়োগের ধারাবাহিক সহযোগিতা ও দিকনির্দেশনার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ত্রিপুরার ‘লক্ষ্য ২০৪৭’ ভিশন ডকুমেন্টের মূল উদ্দেশ্য হলো উন্নত প্রশাসন, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহারের মাধ্যমে একটি উন্নত ও শ্রেষ্ঠ ভবিষ্যতমুখী রাজ্য গড়ে তোলা।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, প্রশাসনিক সংস্কার, ডিজিটাল রূপান্তর, বিনিয়োগ আকর্ষণ, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, উদ্ভাবন এবং উদ্যোগ বিকাশের ক্ষেত্রে ত্রিপুরা উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। ব্যবসা পরিচালনার সহজীকরণ ও প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে ডিরেগুলেশন ও কমপ্লায়েন্স রিডাকশন কর্মসূচির প্রথম ও দ্বিতীয় উভয় পর্যায়েই রাজ্যটি দেশের সব রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মধ্যে প্রথম স্থান অর্জন করেছে।
তিনি আরও জানান, নীতিনির্ধারণ ও জনসেবা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে রাজ্যে ত্রিপুরা ইনস্টিটিউশন ফর ট্রান্সফরমেশন, ট্রিপুরা আরবান প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অথরিটি, ইনভেস্টমেন্ট প্রোমোশন এজেন্সি অব ত্রিপুরা এবং গুড গভর্ন্যান্স ডিপার্টমেন্টের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয়েছে।
বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী ত্রিপুরার উন্নয়নের জন্য কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে সমন্বিত বিনিয়োগ গন্তব্য হিসেবে গড়ে তোলা, আগরতলাকে এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) সিটি হিসেবে বিকাশ করা এবং ত্রিপুরাকে ফার্মাসিউটিক্যাল ও মেডটেক শিল্পের অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা। পাশাপাশি প্রাকৃতিক তন্তু শিল্পের সম্ভাবনা কাজে লাগানো এবং উদ্ভাবন ও উদ্যোগ বিকাশে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ইনকিউবেশন কেন্দ্রগুলির সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার ওপর জোর দেন তিনি।
পরিকাঠামোগত উন্নয়নের স্বার্থে মুখ্যমন্ত্রী দ্রুত সাবরুম-রামগড় সমন্বিত চেকপোস্ট চালু করা, আগরতলা-আখাউড়া রেল সংযোগ কার্যকর করা, আগরতলা-চট্টগ্রাম সরাসরি বিমান পরিষেবা চালু করা, কৈলাসহর বিমানবন্দর পুনরুজ্জীবিত করা, রেল যোগাযোগ আরও শক্তিশালী করা এবং আগরতলা-গুয়াহাটি বন্দে ভারত এক্সপ্রেস চালুর দাবি জানান।
স্বাস্থ্য খাতের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গত কয়েক বছরে রাজ্যের বাইরে রোগী রেফারের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। একইসঙ্গে গত তিন বছরে শিশু মৃত্যুর হার প্রতি হাজার জীবিত জন্মে ১৭ থেকে কমে ১২-তে নেমে এসেছে। তিনি আগরতলায় একটি এআইআইএমএস প্রতিষ্ঠার দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন এবং আয়ুষ্মান ভারত-প্রধানমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনা ও মুখ্যমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনার জন্য অধিক স্বাস্থ্য আর্থিক সহায়তার আবেদন জানান।
ক্রীড়া ক্ষেত্রেও একাধিক প্রস্তাব তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি আগরতলার নেতাজি সুভাষ আঞ্চলিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রকে জিমন্যাস্টিকস, ফুটবল, জুডো ও সাঁতারের জাতীয় একাডেমিতে উন্নীত করার দাবি জানান। পাশাপাশি ‘ট্যুর ডি ফ্রান্স’-এর আদলে উত্তর-পূর্বাঞ্চল জুড়ে বহু-পর্যায়ের সাইক্লিং প্রতিযোগিতা আয়োজনের প্রস্তাব দেন, যা ক্রীড়া, অ্যাডভেঞ্চার পর্যটন এবং আঞ্চলিক সংহতি বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।
বৈঠকের শেষে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সামগ্রিক অগ্রগতি এবং ‘বিকশিত ভারত’-এর জাতীয় লক্ষ্য বাস্তবায়নে ত্রিপুরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। নীতি আয়োগের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত এই আলোচনা রাজ্যের উন্নয়নকে আরও ত্বরান্বিত করবে এবং সমগ্র উত্তর-পূর্বাঞ্চলের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।



















