নয়াদিল্লি, ১২ জুন (আইএএনএস): লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ইন্ডিয়া ব্লকের বৈঠকে ঐক্যের ডাক দিয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে “প্রতিরোধ”কে প্রধান কৌশল হিসেবে গ্রহণ করার আহ্বান জানিয়েছেন। একইসঙ্গে তিনি জোটসঙ্গীদের সমালোচনাকে স্বীকার করে নিয়ে কংগ্রেসের ভূমিকা সম্পর্কে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন।
গত ৮ জুন দিল্লিতে অনুষ্ঠিত ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাহুল গান্ধী বলেন, আপনাদের অনেকেই যেমন বলেছেন, কংগ্রেসের কাজ হলো ভালোবাসা ও সৌহার্দ্যের মাধ্যমে সবাইকে একসঙ্গে নিয়ে আসা। সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে জোটের দুই গুরুত্বপূর্ণ শরিক দলের পরাজয়ের প্রেক্ষাপটে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
দেশের বিভিন্ন সাংবিধানিক ও প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠানের ওপর বিজেপির নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, বিজেপি রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠান, আইনি ব্যবস্থা, আমলাতন্ত্র, গোয়েন্দা সংস্থা, এমনকি নির্বাচন কমিশনকেও নিয়ন্ত্রণ করছে।
২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচন নিয়েও প্রশ্ন তুলে রাহুল দাবি করেন, “আমরা ২০২৪ সালের নির্বাচন হেরে যাইনি, আমরা সেই নির্বাচন জিতেছিলাম।” তাঁর মতে, দেশের রাষ্ট্রযন্ত্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অংশের ওপর আরএসএস-এর প্রভাবই প্রকৃত সমস্যা এবং এর ফলে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন ব্যাহত হচ্ছে।
কংগ্রেসকে প্রতিরোধের আন্দোলন থেকে উঠে আসা একটি দল হিসেবে উল্লেখ করে রায়বরেলির সাংসদ বলেন, দেশের প্রতিষ্ঠানগুলিকে যত বেশি দমিয়ে রাখা হবে, সংবিধান রক্ষায় কংগ্রেস তত বেশি আক্রমণাত্মকভাবে লড়াই করবে।
গণতন্ত্র ধ্বংসের অভিযোগ তুলে তিনি আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গও টানেন। ইরানের সাম্প্রতিক ঘটনাবলির উল্লেখ করে রাহুল বলেন, যা আসছে তা নিয়ন্ত্রণের বাইরে এবং তা জনগণকে সংগঠিত করার নতুন সুযোগ তৈরি করবে।
বিজেপির বিরুদ্ধে ধারাবাহিক নির্বাচনী পরাজয়ের কারণে বিরোধী শিবিরে যে হতাশার পরিবেশ তৈরি হয়েছে, তা কাটিয়ে ওঠারও আহ্বান জানান তিনি। রাহুল বলেন, অনেক সময় আলোচনায় হতাশার সুর শোনা যায়। কিন্তু আমরা যদি একসঙ্গে দাঁড়াই এবং প্রতিরোধ গড়ে তুলি, তাহলে বিজেপিকে পরাজিত করা খুবই সহজ।
তিনি আরও দাবি করেন, দেশের মানুষের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ রয়েছে এবং আগামী নির্বাচনের ফলাফল কার্যত নির্ধারিত হয়ে গেছে। ব্লকের নেতাদের উদ্দেশে তাঁর বার্তা ছিল, প্রথমে বিশ্বাস করতে হবে যে আমরা জিতব। সেই বিশ্বাস নিয়েই এগোতে হবে।
প্রতিরোধের রাজনীতির উদাহরণ দিতে গিয়ে রাহুল গান্ধী সিবিএসই, নিট, গ্রেট নিকোবার আইল্যান্ড-সংক্রান্ত প্রকল্প এবং ভারত জোড়ো যাত্রা-র কথা উল্লেখ করেন। তাঁর বক্তব্য, প্রতিদিন প্রতিরোধের মানসিকতা নিয়ে কাজ করলে তা রাজনৈতিকভাবে ফলপ্রসূ হবে।
উল্লেখ্য, দিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাব-এ অনুষ্ঠিত ইন্ডিয়া ব্লকের এই বৈঠকে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ধাক্কার পর নতুন কৌশল নির্ধারণ, অভ্যন্তরীণ অসন্তোষের বিষয়গুলি নিয়ে আলোচনা এবং বিজেপির মোকাবিলায় পাঁচ দফা কর্মপরিকল্পনা তৈরির বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।



















