কলকাতা, ১২ জুন (আইএএনএস): তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার আবহে দলের সাংসদ সৌগত রায় শুক্রবার কড়া ভাষায় প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, দলের কিছু সাংসদ দাবি করছেন যে তাঁরা কোনও নথিতে স্বাক্ষর করেননি, অথচ তাঁদের নাম ব্যবহার করা হচ্ছে। তাঁর মতে, বর্তমানে যা ঘটছে তা সম্পূর্ণ অনৈতিক এবং রাজনৈতিকভাবে অশোভন।
আইএএনএস-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সৌগত রায় বলেন, কেউ কেউ বলছেন তাঁরা স্বাক্ষর করেননি, অথচ তাঁদের নাম ব্যবহার করা হচ্ছে। সংবাদমাধ্যমে একটি স্বাক্ষর-তালিকা ঘুরছে। সেখানে ১৮, ১৯ না ২০ জন সাংসদের স্বাক্ষর রয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার সূত্র নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। এসব বিষয়ে আমার আগ্রহ নেই। আমি শুধু বলতে চাই, তাঁরা যা করছেন তা অনৈতিক এবং অশোভন।
তিনি আরও বলেন, তাঁরা সবাই তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতীকে নির্বাচিত হয়েছেন। দলের সর্বোচ্চ নেত্রী মমতা ব্যানার্জী তাঁদের হয়ে প্রচার করেছেন এবং দল পূর্ণ সমর্থন দিয়েছে। হঠাৎ কী এমন ঘটল যে তাঁরা দল ছাড়ার কথা ভাবছেন? তাঁরা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের সঙ্গে বৈঠক করেছেন এবং শীঘ্রই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গেও দেখা করার পরিকল্পনা করছেন। এসব রাজনৈতিকভাবে সঠিক নয়। আমার মতে, ‘অপারেশন লোটাস’-এর কারণেই এসব ঘটছে। বিজেপি নিজেদের সংখ্যা বাড়ানোর চেষ্টা করছে।
পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে সৌগত রায় বলেন, একদিকে বিজেপি নেতা সমীক ভট্টাচার্য অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। অন্যদিকে শুভেন্দু অধিকারী অত্যন্ত সক্রিয় ভূমিকা নিচ্ছেন। তিনি সন্ধ্যায় সাংসদ শতাব্দী রায়ের বাসভবনে যান এবং পরে কলকাতায় কয়েকজন অসন্তুষ্ট নেতার সঙ্গেও বৈঠক করেন। তিনি কোনও না কোনওভাবে ‘অপারেশন লোটাস’ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন।
এদিকে শুক্রবার তৃণমূল কংগ্রেসের ১৯ জন লোকসভা সাংসদের স্বাক্ষরযুক্ত বলে দাবি করা তিনটি পৃষ্ঠা প্রকাশ্যে আসে। ওই নথিতে দাবি করা হয়েছে যে তাঁরা লোকসভায় দলের মূল ও সংখ্যাগরিষ্ঠ গোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব করছেন।
তবে এই তিনটি পৃষ্ঠা আদৌ লোকসভার স্পিকারের দপ্তরে জমা দেওয়া কোনও চিঠির অংশ কি না, তা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা রয়েছে। জানা গিয়েছে, এই উদ্যোগের নেতৃত্বে রয়েছেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার এবং শতাব্দী রায়।
প্রকাশিত নথিতে প্রথম স্বাক্ষর রয়েছে কাকলি ঘোষ দস্তিদারের এবং দ্বিতীয় স্বাক্ষর শতাব্দী রায়ের। এছাড়াও আরও ১৭ জন তৃণমূল সাংসদের স্বাক্ষর দেখা গিয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। তবে এই স্বাক্ষরযুক্ত নথির সত্যতা এখনও স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
























