কলকাতা, ১২ জুন (আইএএনএস) : বাংলাদেশ সীমান্ত সংলগ্ন পশ্চিমবঙ্গের মালদা, মুর্শিদাবাদ, উত্তর দিনাজপুর এবং দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে শুক্রবার প্রশাসনিক পর্যালোচনা বৈঠকে বসছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নবান্ন সূত্রে খবর, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং নদীভাঙন রোধই বৈঠকের মূল আলোচ্য বিষয়।
প্রশাসনিক সূত্রের খবর, সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের জন্য সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-কে জমি হস্তান্তরের অগ্রগতি খতিয়ে দেখা হবে। পাশাপাশি বাংলাদেশ থেকে অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধে রাজ্য পুলিশ ও বিএসএফের মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদার করার বিষয়েও আলোচনা হবে।
বৈঠকে মালদা ও মুর্শিদাবাদ জেলার দীর্ঘদিনের নদীভাঙন সমস্যা বিশেষ গুরুত্ব পেতে চলেছে। প্রতিবছর গঙ্গা ও অন্যান্য নদীর ভাঙনে ব্যাপক সম্পত্তির ক্ষতি হয়। বর্ষা শুরুর আগে বন্যা নিয়ন্ত্রণ এবং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থাও বৈঠকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
গত মাসে মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই সীমান্তে বেড়া নির্মাণের জন্য জমি হস্তান্তর প্রক্রিয়াকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। ২০ মে থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জমি হস্তান্তর কার্যক্রম শুরু হয় এবং প্রথম পর্যায়ে ২৭ কিলোমিটার এলাকার জমি বিএসএফের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
ভারত-বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সীমান্তের মোট দৈর্ঘ্য ৪,০৯৬.৭ কিলোমিটার। এর মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের অংশে রয়েছে ২,০০০ কিলোমিটারেরও বেশি সীমান্ত। রাজ্যে প্রায় ১,৬০০ কিলোমিটার এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া থাকলেও এখনও প্রায় ৬০০ কিলোমিটার সীমান্ত অরক্ষিত রয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী একাধিকবার অভিযোগ করেছেন যে পূর্ববর্তী তৃণমূল কংগ্রেস সরকার পরিকল্পিতভাবে বিএসএফকে জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া বিলম্বিত করেছিল, যার ফলে অবৈধ অনুপ্রবেশ অব্যাহত ছিল।
এদিকে সম্প্রতি রাজ্য সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে সীমান্তবর্তী এলাকায় ধৃত অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের সরাসরি আদালতে হাজির না করে প্রথমে হোল্ডিং সেন্টারে রাখা হবে। পরে তাঁদের বিএসএফের সীমান্ত চৌকিতে পাঠিয়ে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।
আজকের বৈঠকের সিদ্ধান্ত সীমান্ত নিরাপত্তা, অনুপ্রবেশ রোধ এবং নদীভাঙন মোকাবিলায় ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে বলে প্রশাসনিক মহলের ধারণা।



















