আগরতলা, ১২ জুন: ২০২৪ সালের শান্তিচুক্তির আওতায় দেওয়া প্রতিশ্রুতি দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে আত্মসমর্পণকারী এনএলএফটি ও এটিটিএফ -এর প্রাক্তন সদস্যদের ডাকা ৭২ ঘণ্টার সড়ক ও রেল অবরোধে শুক্রবার ত্রিপুরার বিভিন্ন এলাকায় জনজীবন ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছে। অবরোধের জেরে পশ্চিম ত্রিপুরা ও খোয়াই জেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। এদিন সকাল থেকেই রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে পিকেটিং করতে দেখা যায় আন্দোলনকারীদের।
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, ভারত সরকার, ত্রিপুরা সরকার এবং আত্মসমর্পণকারী বৈরী সংগঠনগুলির মধ্যে স্বাক্ষরিত ২০২৪ সালের শান্তিচুক্তির আওতায় পুনর্বাসন ও উন্নয়ন সংক্রান্ত যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তার বাস্তবায়নে অযথা বিলম্ব হচ্ছে। সেই কারণেই তারা এই আন্দোলনের পথে নামতে বাধ্য হয়েছেন।
জানা গেছে, মোহনপুর মহকুমার সুবলসিং, জিরানিয়া মহকুমার সাধুপাড়া সেতু এলাকা এবং পশ্চিম ত্রিপুরার ভৃগুদাসবাড়ি—এই তিনটি স্থানে অবরোধ কর্মসূচি পালন করা হয়। বিশেষ করে সাধুপাড়া সেতু এলাকায় বিপুল সংখ্যক আন্দোলনকারী জড়ো হয়ে অসম-আগরতলা জাতীয় সড়কে যান চলাচল বন্ধ করে দেন। ফলে শত শত যাত্রী দুর্ভোগের শিকার হন।
অবরোধের প্রভাব পড়ে রেল পরিষেবাতেও। ভৃগুদাসবাড়ি এলাকায় আন্দোলনকারীরা রেলপথ অবরোধ করলে আগরতলা-সেকেন্দ্রাবাদ এক্সপ্রেস ট্রেনকে মাঝপথ থেকে ফিরে যেতে বাধ্য হতে হয়। এই অবরোধের কারণে কর্মস্থল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, চিকিৎসা কেন্দ্র এবং অন্যান্য জরুরি কাজে যাতায়াতকারী সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তির মুখে পড়েন। বহু যাত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, বারবার অবরোধের কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন সাধারণ মানুষই।
এক যাত্রী বলেন, “অবরোধের আগে ঘোষণা করা হয় ঠিকই, কিন্তু সাধারণ মানুষের সমস্যার তাৎক্ষণিক কোনও সমাধান থাকে না। মানুষ উন্নয়নের সুফল প্রত্যন্ত এলাকায় পৌঁছাতে দেখতে চায়।”
অন্য এক যাত্রীর বক্তব্য, পরিবহন ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে গেলে দিনমজুর ও নিত্যযাত্রীদের আর্থিক ক্ষতি সবচেয়ে বেশি হয়।
অবরোধের প্রভাব স্পষ্ট দেখা যায় আগরতলার রাধানগর বাসস্ট্যান্ডে। দূরপাল্লার বাস পরিষেবা কার্যত ব্যাহত হয় এদিন। কিছু ছোট যানবাহন কেবল মোহনপুর পর্যন্ত চলাচল করলেও খোয়াই হয়ে কৈলাসহরের দিকে যাওয়া গাড়িগুলোর পরিষেবা এদিন বন্ধ ছিল।
উল্লেখ্য, গতকাল সচিবালয়ে জনজাতি কল্যাণ মন্ত্রী বিকাশ দেববর্মার সঙ্গে আত্মসমর্পণকারী জঙ্গিদের প্রতিনিধিদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে পুনর্বাসন সংক্রান্ত বিভিন্ন অমীমাংসিত বিষয় নিয়ে আলোচনা হলেও কোনও চূড়ান্ত সমাধান সূত্র বেরিয়ে আসেনি।
আন্দোলনকারীদের প্রধান দাবি, শান্তিচুক্তির অধীনে ঘোষিত ২৫০ কোটি টাকার পুনর্বাসন প্যাকেজ দ্রুত কার্যকর করতে হবে। পাশাপাশি কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্যসেবা এবং আত্মসমর্পণকারী সদস্যদের আর্থিক সহায়তার বিষয়েও তারা সরকারের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।
এদিকে এই অবরোধের জেরে সকাল থেকে বিভিন্ন জায়গায় আটকে পড়েন নিত্যযাত্রীরা। প্রশাসনের তরফে অবরোধ তুলে দিতে কোনো পদক্ষেপ গ্রহন করতে দেখা যায়নি। ফলে সকাল থেকেই বিভিন্ন এলাকায় অবরোধ চালিয়ে যাচ্ছেন আন্দোলনকারীরা। সকাল থেকেই দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন নিত্যযাত্রীরা। এদিন এই অবরোধের জেরে প্রতিদিনের লোকাল ট্রেনগুলোও গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেনি। ফলে একপ্রকার নাজেহাল অবস্থার শিকার হতে হয়েছে নিত্য যাত্রীদের।



















