রাঁচি, ১০ জুন (আইএএনএস): পৃথক ঝাড়খণ্ড রাজ্য গঠনের আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা বুধবার রাঁচিতে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে তাঁদের দীর্ঘদিনের দাবি আদায়ের দাবিতে আন্দোলন জোরদার করলেন।
ঝাড়খণ্ড আন্দোলন লঙ্কারি সংগ্রাম মোর্চা-র ব্যানারে বিভিন্ন জেলা থেকে আসা আন্দোলনকারীরা মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনের উদ্দেশে মিছিল করার চেষ্টা করেন। তবে পুলিশ সিদো-কানহু পার্কের কাছে ব্যারিকেড বসিয়ে তাঁদের আটকে দেয়। এরপর আন্দোলনকারীরা রাস্তার উপর অবস্থান-বিক্ষোভে বসেন।
মোরাবাদি ময়দান থেকে ঢাক-ঢোল ও ঐতিহ্যবাহী বাদ্যযন্ত্রের সঙ্গে মিছিল করে আসা আন্দোলনকারীদের দাবি, পৃথক ঝাড়খণ্ড রাজ্য গঠনের জন্য দীর্ঘ সংগ্রাম করলেও আজও তাঁরা যথাযথ স্বীকৃতি ও অধিকার পাননি। তাঁদের মূল দাবিগুলির মধ্যে রয়েছে সরকারি স্বীকৃতি, সম্মানজনক পেনশন, ক্ষতিপূরণ এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের জন্য চাকরি বা কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা।
মোর্চার প্রধান সম্পাদক পুষ্কর মাহতো-র নেতৃত্বে আয়োজিত এই বিক্ষোভে আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করেন যে সরকার দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের দাবিগুলি উপেক্ষা করে চলেছে।
তাঁদের বক্তব্য, ঝাড়খণ্ড রাজ্য গঠনের আন্দোলনে হাজার হাজার মানুষ অংশ নিয়েছিলেন এবং অনেকে প্রাণও উৎসর্গ করেছিলেন। কিন্তু রাজ্য গঠনের ২৫ বছর পরেও সেই আন্দোলনকারীদের জীবনযাত্রার পরিস্থিতি সন্তোষজনক নয়।
বিক্ষোভ চলাকালীন আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের কিছু সময়ের জন্য বাগ্বিতণ্ডাও হয়। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, তাঁদের এগোতে বাধা দেওয়া হয়েছে এবং যথাযথ সম্মান দেখানো হয়নি। তাঁরা স্পষ্ট করে জানান, তাঁরা কোনও বিশেষ সুবিধা চাইছেন না, বরং আন্দোলনে তাঁদের অবদানের সরকারি স্বীকৃতি ও সম্মান দাবি করছেন।
আন্দোলনের নেতাদের আরও অভিযোগ, বিভিন্ন জেলা থেকে রাঁচির উদ্দেশে রওনা দেওয়া কয়েকজন আন্দোলনকারীকে পথে আটকে দেওয়া হয়েছে এবং কয়েকজনকে আটকও করা হয়েছে। যদিও প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই অভিযোগের বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
এদিকে আন্দোলনকে আরও তীব্র করতে ১৭ জন আন্দোলনকারী অনির্দিষ্টকালের অনশন শুরু করেছেন। তাঁদের হুঁশিয়ারি, দ্রুত দাবি না মানা হলে আন্দোলনের পরিধি আরও বাড়ানো হবে।
আন্দোলনকারীদের বক্তব্য, ঝাড়খণ্ড শুধুমাত্র একটি ভৌগোলিক সত্তা নয়, বরং দীর্ঘ সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের ফল। তাই যাঁরা এই রাজ্য গঠনে ভূমিকা রেখেছেন, তাঁদের দাবিগুলির দ্রুত সমাধান করা সরকারের দায়িত্ব।
_______
























