আগরতলা, ৭ জুন: মাত্র ২৮ বছরের এক শিক্ষিত যুবকের রহস্যজনক মৃত্যু। দেহ উদ্ধারের পর কেটে গেছে কয়েকদিন, কিন্তু এখনও পর্যন্ত তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে একটি কথাও বলতে নারাজ পুলিশ। আর সেই নীরবতাই এখন প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে গোটা তদন্ত প্রক্রিয়াকে।
গত ৫ জুন সন্ধ্যায় কুমারঘাট থানাধীন ভাটি দুধপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার একটি জলাশয় থেকে উদ্ধার হয় স্বাগত ঘোষ (সাগর)-এর মৃতদেহ। পেশায় গৃহশিক্ষক স্বাগত এমএসসি, বিএড ও বিএসসি ডিগ্রিধারী ছিলেন। তাঁর বাড়ি ফটিকরায় থানার অন্তর্গত কাঞ্চনবাড়ি এলাকায়।স্থানীয়দের অভিযোগ, যেভাবে মৃতদেহটি উদ্ধার হয়েছে, তাতে এটি নিছক দুর্ঘটনা বা আত্মহত্যা বলে মনে করার কোনও সুযোগ নেই। উদ্ধারকালে দেখা যায়, যুবকের মুখ ও গলা কাপড় দিয়ে বাঁধা ছিল এবং দেহের সঙ্গে রশি দিয়ে বাঁধা ছিল প্রায় ১০ থেকে ১৫ কেজি ওজনের একটি পাথর। এই দৃশ্য দেখেই এলাকাবাসীর একাংশের দাবি, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।
এদিকে ছেলের মৃত্যুতে ভেঙে পড়েছেন স্বাগতের মা শিপ্রা ঘোষ। সংবাদমাধ্যমের সামনে চোখে জল নিয়ে তিনি বলেন,“আমার ছেলে খুব শান্ত স্বভাবের ছিল। কারও সঙ্গে কোনও শত্রুতা ছিল না। ওকে যেভাবে জলাশয় থেকে উদ্ধার করা হয়েছে, একজন মা হিসেবে আমি নিশ্চিত—আমার ছেলেকে খুন করা হয়েছে। আমি আমার সন্তানের জন্য বিচার চাই। যারা আমার ছেলেকে আমার কাছ থেকে কেড়ে নিয়েছে, তাদের যেন আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি দেওয়া হয়। মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আমার একটাই আবেদন, এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে সত্যিটা সামনে আনা হোক।”
স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য, তদন্তের স্বার্থে সব তথ্য প্রকাশ না করা পুলিশের অধিকার হতে পারে, কিন্তু অন্তত তদন্ত চলছে কি না, কোনও সূত্র পাওয়া গেছে কি না, সে বিষয়ে একটি আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেওয়া উচিত। নীরবতা কখনওই মানুষের আস্থা বাড়ায় না, বরং প্রশ্ন আরও গভীর করে। এখন গোটা জেলার নজর এই ঘটনার দিকে। একদিকে সন্তান হারানোর বেদনা বুকে নিয়ে ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় এক অসহায় মা, অন্যদিকে তদন্ত নিয়ে পুলিশের রহস্যজনক নীরবতা। স্বাগত ঘোষের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ কী, কারা জড়িত, আর কেন এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা গেল না—এই প্রশ্নগুলোর উত্তর জানতে চাইছে সমগ্র কুমারঘাটবাসী।মানুষের একটাই দাবি—দোষী যে-ই হোক, দ্রুত তাকে আইনের আওতায় এনে স্বাগত ঘোষের পরিবারের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হোক।
জলজ্যান্ত একটি ২৮ বছরের যুবকের মৃতদেহ এভাবে জলাশয় থেকে উদ্ধারের ঘটনা কুমারঘাট এলাকায় প্রথম বলে দাবি স্থানীয়দের। তবে কেন মহকুমা পুলিশ আধিকারিক এই বিষয়ে কোনো তথ্য সামনে আনছেননা তা নিয়ে ক্ষোভ দানা বাঁধতে শুরু করেছে। অনেকেই বলছেন প্রভাবশালী মহল এই মৃত্যুকান্ডের পেছনে জড়িত থাকতে পারে আর তাই হয়তো জনসমক্ষে মুখ খুলতে চাইছেনা পুলিশ। তবে গোটা ঘটনার তদন্তের দিকে তাকিয়ে আছে গোটা ঊনকোটি জেলার মানুষ।
























