নয়াদিল্লি, ৬ জুন (আইএএনএস): জনপ্রিয় ইউটিউবার ও শিক্ষাবিদ ফৈজল খান ওরফে ‘খান স্যার’-এর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়েরকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক তরজা তীব্র হয়েছে। এনডিএ নেতারা আইনের শাসনের কথা তুলে ধরে তথাকথিত ‘কোচিং মাফিয়া’র বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন। অন্যদিকে, পূর্ণিয়ার সাংসদ পাপ্পু যাদবের অভিযোগ, খান স্যারকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে নিশানা করা হচ্ছে।
গত ২ জুন পাটনার কদমকুয়ান এলাকার একটি কোচিং প্রতিষ্ঠানে অশান্তির ঘটনায় খান স্যারের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। একই মামলায় তাঁর গ্রেফতার হওয়া দুই নিরাপত্তারক্ষী এবং আরও কয়েকজন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির বিরুদ্ধেও অভিযোগ দায়ের হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, জিজ্ঞাসাবাদের সময় গ্রেফতার হওয়া দুই দেহরক্ষী দাবি করেছেন যে, ফৈজল খানের নির্দেশেই তাঁরা .৩১৫ বোরের রাইফেল থেকে গুলি চালিয়েছিলেন।
এ প্রসঙ্গে বিহার বিজেপি সভাপতি সঞ্জয় সারাওগি বলেন, “যে-ই আইন ভাঙুক, তাকে তার পরিণতি ভোগ করতেই হবে। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে পুলিশকে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “কেউ যতই প্রভাবশালী হোক বা সাধারণ মানুষ হোক, আইনের চোখে সবাই সমান। আইন লঙ্ঘন করলে তার জবাবদিহি করতেই হবে।”
জনতা দল (ইউনাইটেড)-এর মুখপাত্র নীরজ কুমারও একই সুরে বলেন, আইনের প্রয়োগ সবার জন্য সমান। তিনি সতর্ক করে বলেন, শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে চাওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে বিজেপি নেতা টি.আর. শ্রীনিবাস অভিযোগ করেন, “এটি একটি বড় কোচিং মাফিয়া নেটওয়ার্ক, যা শুধু বিহারেই নয়, রাজস্থান, দিল্লি-সহ বিভিন্ন রাজ্যে ছড়িয়ে রয়েছে।”
তিনি কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী, কেন্দ্র সরকার এবং বিহার, রাজস্থান-সহ সংশ্লিষ্ট রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের কাছে বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠনের আবেদন জানান, যাতে এই ধরনের প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে তদন্ত করা যায়।
শ্রীনিবাসের অভিযোগ, কিছু কোচিং প্রতিষ্ঠান শিক্ষার আড়ালে সরকারের বিরুদ্ধে প্রভাবশালী বক্তব্য প্রচার করছে। তাঁর দাবি, “এগুলিকে এখনই নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীদের নেতিবাচক প্রচারের কাজে ব্যবহার করা হতে পারে।”
অন্যদিকে, পূর্ণিয়ার সাংসদ পাপ্পু যাদব বলেন, “বিহারের প্রায় ৩০ শতাংশ কোচিং প্রতিষ্ঠান দেশের অন্যান্য নামী কোচিং কেন্দ্র, এমনকি কোটার প্রতিষ্ঠানগুলির থেকেও বেশি সম্মানিত। তবে ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ কোচিং সেন্টার সঠিকভাবে পরিচালিত হচ্ছে না এবং সেখানেই নানা ষড়যন্ত্রের জন্ম হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, কিছু ইউটিউবার এবং কনটেন্ট নির্মাতা ভুল তথ্য ছড়াচ্ছেন। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তাঁর আবেদন, “এ ধরনের বিষয়ে জড়াবেন না এবং ইনস্টাগ্রামের মতো সামাজিক মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করবেন না।”
তবে পাপ্পু যাদব স্বীকার করেন যে, “ভুল যে কারও হতে পারে, খান স্যারের দেহরক্ষীদেরও হয়েছে।”
একই সঙ্গে তিনি প্রশ্ন তোলেন, “ভুল যদি তাঁর দেহরক্ষীরা করে থাকে, তাহলে খান স্যারকে কেন এই ঘটনায় জড়ানো হচ্ছে?” তাঁর দাবি, শিক্ষাবিদকে ব্যক্তিগতভাবে টার্গেট করা হচ্ছে।
ঘটনায় তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং পুলিশ আরও তথ্য সংগ্রহ করছে।



















