কলকাতা, ৬ জুন (আইএএনএস): প্রাক্তন রাজ্য মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস এবং তাঁর ভাই স্বরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে লাইফ ইন্স্যুরেন্স কর্পোরেশন (এলআইসি)-এর ২১ কাঠা জমি জবরদখল করে সেখানে সুরুচি সংঘের দুর্গাপুজো আয়োজনের অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগে শনিবার আলিপুর থানার দ্বারস্থ হয়েছে এলআইসি কর্তৃপক্ষ।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কলকাতার অন্যতম জনপ্রিয় দুর্গাপুজো সুরুচি সংঘের ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
সুরুচি সংঘ ক্লাব দীর্ঘদিন ধরেই অরূপ বিশ্বাস ও স্বরূপ বিশ্বাসের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত বলে পরিচিত। সম্প্রতি চাঁদাবাজি, শ্লীলতাহানি-সহ একাধিক অভিযোগে স্বরূপ বিশ্বাসকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
স্বরূপ বিশ্বাস গ্রেফতার হওয়ার পর শুক্রবার উত্তেজিত জনতা সুরুচি সংঘ ক্লাবে ঢুকে ব্যাপক ভাঙচুর চালায় বলেও অভিযোগ।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই এলআইসি দাবি করেছে যে, বহু বছর ধরে তাদের ২১ কাঠা জমি বেআইনিভাবে দখল করে রাখা হয়েছে এবং সেই জমিতেই সুরুচি সংঘের দুর্গাপুজো অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। শুধু তাই নয়, ওই জমিকে ঘিরে একটি ক্লাব ভবনও নির্মাণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, জমি পুনরুদ্ধারের দাবিতে এলআইসি কর্তৃপক্ষ আলিপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
এলআইসির কর্মকর্তাদের দাবি, এর আগেও একাধিকবার জমি ফেরত পাওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ালেও শেষ পর্যন্ত জমির দখল ফিরে পাওয়া যায়নি।
বীমা সংস্থার আরও অভিযোগ, ওই জমির উপর সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে একটি তিনতলা ভবন নির্মাণ করা হয়েছে, যেখানে একাধিক শয়নকক্ষও রয়েছে। এলআইসির বক্তব্য, এই নির্মাণ আইন লঙ্ঘন করেই করা হয়েছে।
এদিকে, বিস্বাস ভ্রাতৃদ্বয়ের নেতৃত্বাধীন সুরুচি সংঘকে ঘিরে অতীতেও একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ, বিভিন্ন সরকারি সামগ্রী ঘুরপথে এনে ক্লাবে মজুত রাখা হত।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ক্লাব ভবনের পাশের একটি ঘর থেকে বিপুল পরিমাণ সরকারি পানীয় জল ‘প্রাণধারা’-র বোতল উদ্ধার হয়েছে। পাশাপাশি ত্রাণ বিতরণের জন্য ব্যবহৃত বিপুল সংখ্যক শাড়িও পাওয়া গিয়েছে বলে অভিযোগ।
এই সব সামগ্রী উদ্ধারের পর স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছেন। ক্লাব ভবনের ভিতরে একাধিক শয়নকক্ষ থাকার বিষয়টিও নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
তবে এই সমস্ত অভিযোগের বিষয়ে বিস্বাস ভ্রাতৃদ্বয়ের পক্ষ থেকে এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।



















