নয়াদিল্লি, ৬ জুন (আইএএনএস): সুরতের মানুষের সঙ্গে সময় কাটানো ছিল অত্যন্ত আনন্দের অভিজ্ঞতা। এই প্রাণবন্ত শহর থেকে আত্মনির্ভর ও শক্তিশালী ভারত গড়ার অঙ্গীকার আরও একবার সম্মিলিতভাবে পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে বলে মন্তব্য করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
শনিবার সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ একটি পোস্টে প্রধানমন্ত্রী লেখেন, “গতকাল সুরতের মানুষের মধ্যে থাকতে পেরে খুব ভালো লেগেছে। এই প্রাণবন্ত শহর থেকে আমরা সবাই মিলে শক্তিশালী ও আত্মনির্ভর ভারত গড়ার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছি।”
পোস্টের সঙ্গে তিনি একটি দু’মিনিটের ভিডিওও শেয়ার করেন, যেখানে উপস্থিত জনতার মুখে ‘মোদি, মোদি’ স্লোগান শোনা যায়।
ভিডিও বার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমার বিশ্বাস, সুরত শুধু একটি শহর নয়, এটি একটি চেতনা। আমাদের সংকল্প ‘বিকশিত সুরত’-এর পাশাপাশি ‘বিকশিত ভারত’ গড়ে তোলা।”
বর্তমান বৈশ্বিক সংকটের প্রেক্ষাপটে জ্বালানি ক্ষেত্রে আত্মনির্ভরতার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, শিল্পাঞ্চল হাজিরা পরিদর্শন করলে ‘আত্মনির্ভর ভারত’-এর প্রকৃত অর্থ আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বর্তমানে বিশ্বজুড়ে যে পরিস্থিতি চলছে, তা দেখিয়ে দিচ্ছে যে জ্বালানির ক্ষেত্রে আত্মনির্ভরতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হাজিরায় গেলে আত্মনির্ভর ভারতের অর্থ স্পষ্টভাবে বোঝা যায়। এটি শুধু একটি শিল্পাঞ্চল নয়, বরং এমন একটি সমন্বিত পরিকাঠামো যেখানে জ্বালানি, ইস্পাত, প্রতিরক্ষা উৎপাদন এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য একসূত্রে গাঁথা। হাজিরাকে দেশের বৃহত্তম সামুদ্রিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে। এটি আত্মনির্ভর ভারতের অন্যতম কেন্দ্র হয়ে উঠছে।”
দেশে কিছু নেতিবাচক মানসিকতার মানুষ আত্মনির্ভর ভারত অভিযানের সমালোচনা করেন বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। তবে তাঁর দাবি, ভারত আশাবাদ ও আত্মবিশ্বাসের দেশ।
তিনি বলেন, “এই দেশে কিছু নৈরাশ্যবাদী মানুষ আছেন, যারা আত্মনির্ভর ভারত অভিযানকে উপহাস করেন। কিন্তু ভারত নেতিবাচকতার দেশ নয়। এটি আশা, স্বপ্ন ও সংকল্পে ভরপুর একটি দেশ। দেশের মানুষ যখন দৃঢ় প্রতিজ্ঞ হন, তখন সব লক্ষ্য ও স্বপ্ন পূরণ করা সম্ভব। এটাই ভারতের শক্তি।”
উল্লেখ্য, শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী মোদি সুরতে প্রায় ১৮,৮০০ কোটি টাকার বিভিন্ন উন্নয়ন ও পরিকাঠামো প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাস করেন।
সফর শেষে এক্স-এ দেওয়া আরেকটি পোস্টে তিনি বলেন, “সুরত শুধু একটি শহর নয়, এটি একটি চেতনা। এখানকার মানুষের কর্মশক্তি ও উদ্যমের মধ্যেই সেই চেতনার প্রতিফলন দেখা যায়।”
সুরতের পরিচ্ছন্নতা অভিযানের ভূয়সী প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এক সময় যে শহর প্লেগ মহামারির জন্য পরিচিত ছিল, আজ সেই শহর পরিচ্ছন্নতার ক্ষেত্রে দেশের অন্যতম উদাহরণ।
তাঁর কথায়, “যে শহর একসময় ভয়াবহ প্লেগের জন্য পরিচিত ছিল, আজ সেই শহর পরিচ্ছন্নতার জন্য পরিচিত।”
তিনি আরও জানান, পরিচ্ছন্নতায় সাফল্য অর্জনের পরেও সুরতের মানুষ আত্মতুষ্ট হননি। বরং ‘স্বচ্ছতা’ বজায় রাখতে এবং আরও উন্নত করতে তাঁরা নিরন্তর কাজ করে চলেছেন।
বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে গত কয়েকদিন ধরে সুরতের বাসিন্দারা একাধিক পরিচ্ছন্নতা অভিযানে অংশ নিয়েছেন বলেও প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন।



















