News Flash

  • Home
  • বিদেশ
  • রাষ্ট্রসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সামান্য সংস্কার যথেষ্ট নয়, স্থায়ী সদস্য বৃদ্ধি অপরিহার্য: ভারতের বক্তব্য
Image

রাষ্ট্রসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সামান্য সংস্কার যথেষ্ট নয়, স্থায়ী সদস্য বৃদ্ধি অপরিহার্য: ভারতের বক্তব্য

রাষ্ট্রসংঘ, ৬ জুন (আইএএনএস): বর্তমান বিশ্বের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদকে কার্যকর করে তুলতে শুধু সীমিত সংস্কার যথেষ্ট নয়, বরং স্থায়ী সদস্যপদ সম্প্রসারণসহ অর্থবহ সংস্কার প্রয়োজন বলে জানিয়েছে ভারত।

শুক্রবার রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদে নিরাপত্তা পরিষদের বার্ষিক রিপোর্ট নিয়ে আলোচনায় ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি পি হরিশ বলেন, “ষাটের দশকে শুধুমাত্র অস্থায়ী সদস্যপদ বৃদ্ধি করে যে সীমিত সংস্কার করা হয়েছিল, তা নিরাপত্তা পরিষদের কার্যপ্রণালিতে কোনও উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনতে পারেনি।”

তিনি জোর দিয়ে বলেন, নিরাপত্তা পরিষদের প্রকৃত ও অর্থবহ সংস্কারের জন্য স্থায়ী এবং অস্থায়ী—উভয় ধরনের সদস্যপদের সম্প্রসারণ অপরিহার্য।

পি হরিশের মতে, নিরাপত্তা পরিষদের বর্তমান কাঠামো এখনও ১৯৪৫ সালের বাস্তবতাকে প্রতিফলিত করে, যা তার কার্যকারিতাকে সীমাবদ্ধ করে রেখেছে।

তিনি বলেন, “আমরা সবাই স্বীকার করি যে বর্তমান ও ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নিরাপত্তা পরিষদকে আরও উপযুক্ত ও কার্যকর করতে সংস্কার অত্যন্ত জরুরি।”

১৯৬৫ সালে নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্য সংখ্যা ১১ থেকে বাড়িয়ে ১৫ করা হলেও স্থায়ী সদস্যদের সংখ্যা অপরিবর্তিত ছিল। ফলে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী ক্ষমতার ভারসাম্যই বজায় থেকেছে।

বর্তমানে নিরাপত্তা পরিষদে পাঁচটি স্থায়ী সদস্য দেশ—যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চীন, যুক্তরাজ্য এবং ফ্রান্স—ভেটো ক্ষমতা ভোগ করে। এই কাঠামো ১৯৪৫ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বিজয়ী শক্তিগুলির দ্বারা নির্ধারিত হয়েছিল এবং এখনও বহাল রয়েছে।

অন্যদিকে, ১৯৪৫ সালে রাষ্ট্রসংঘের সদস্য সংখ্যা ছিল ৫১। বর্তমানে তা বেড়ে ১৯৩-এ পৌঁছেছে। পাশাপাশি বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতাও বদলেছে, যেখানে ভারতের মতো দেশ গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হিসেবে উঠে এসেছে।

ভারত আরও উল্লেখ করেছে যে, আফ্রিকা মহাদেশে রাষ্ট্রসংঘের অধিকাংশ শান্তিরক্ষা অভিযান পরিচালিত হলেও আফ্রিকান দেশগুলির কোনও স্থায়ী প্রতিনিধিত্ব নিরাপত্তা পরিষদে নেই।

নিরাপত্তা পরিষদের বার্ষিক রিপোর্টের বর্তমান কাঠামোরও সমালোচনা করেন পি হরিশ। তাঁর মতে, রিপোর্টটি আরও বিশ্লেষণধর্মী হওয়া উচিত এবং আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষার ক্ষেত্রে পরিষদের কার্যকারিতা, সীমাবদ্ধতা ও উন্নতির ক্ষেত্রগুলো স্পষ্টভাবে তুলে ধরা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, শান্তিরক্ষা অভিযান নিরাপত্তা পরিষদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হলেও বর্তমান রিপোর্টে এসব অভিযানের কার্যক্রম, চ্যালেঞ্জ এবং ম্যান্ডেট পর্যালোচনার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয় না।

Releated Posts

জাতিসংঘের সমআয়তন মানচিত্র প্রস্তাবে ভারতের সমর্থন, জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখের সঠিক চিত্রায়নে জোর

নয়াদিল্লি, ৬ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সমআয়তন বিশ্ব মানচিত্র সংক্রান্ত প্রস্তাবকে সমর্থন করল ভারত। তবে একই সঙ্গে…

ByByNews Desk Sep 6, 2026

বিচারবিভাগীয় সহযোগিতা জোরদারে ভারত-রাশিয়ার আলোচনা, আন্তর্জাতিক মঞ্চে সমন্বয়ে জোর

নয়াদিল্লি, ৫ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): বিচারবিভাগীয় সহযোগিতা আরও গভীর করার বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছেছে ভারত ও রাশিয়া। আন্তর্জাতিক মঞ্চে পারস্পরিক…

ByByNews Desk Sep 5, 2026

নেপালে ভয়াবহ বন্যা: মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১,৩৪৪, নিখোঁজ ৪,৮৮৬

কাঠমান্ডু, ৫ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): নেপালে গত সপ্তাহের ভয়াবহ বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১,৩৪৪ হয়েছে। ভোতে কোশি নদীর প্রবল…

ByByNews Desk Sep 5, 2026

চিলিমে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে আরও গভীরে ভারত-নেপালের উদ্ধারকারী দল

কাঠমান্ডু, ৫ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলিতে উদ্ধার ও ত্রাণ অভিযান অব্যাহত রেখেছে ভারতীয় উদ্ধারকারী…

ByByNews Desk Sep 5, 2026
Scroll to Top