নয়াদিল্লি, ৪ জুন (আইএএনএস): পশ্চিমবিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের পরাজয়ের এক মাসের মধ্যেই দলের ভাঙনের জন্য প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা ব্যানার্জী-র ‘অহংকার’ এবং দলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জী-র ‘একনায়কতান্ত্রিক আচরণ’-কে দায়ী করলেন এনডিএ-র একাধিক নেতা।
বুধবার তৃণমূলের বহিষ্কৃত বিধায়ক রিতাব্রতা ব্যানার্জী-র নেতৃত্বে ৮০ জন নির্বাচিত বিধায়কের মধ্যে ৫৮ জন একটি প্রস্তাব জমা দেন। ওই প্রস্তাবে তাঁরা নিজেদের বিধানসভায় তৃণমূলের আনুষ্ঠানিক ব্লক এবং রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার আবেদন জানান। একইসঙ্গে রিতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে মনোনীত করা হয়। পরে বিধানসভার স্পিকার সেই প্রস্তাব গ্রহণ করেন।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৃণমূলের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছে এনডিএ শিবির।
জনতা দল (ইউনাইটেড)-এর মুখ্য মুখপাত্র নীরজ কুমার বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অত্যন্ত অহংকারী হয়ে উঠেছেন। তিনি বলেছিলেন, যে দলে থাকতে চায় থাকবে, না চাইলে চলে যাবে। এই ধরনের মনোভাবই আজকের পরিস্থিতির জন্য দায়ী। প্রথমে দলের মেয়র, তারপর বিধায়করা দল ছাড়ছেন। এমন দিনও আসতে পারে যখন তাঁর দফতরের কর্মীরাও সরে যাবেন।”
জেডিইউ নেতা রাজীব রঞ্জন প্রসাদ দাবি করেন, “তৃণমূল কংগ্রেসে আনুষ্ঠানিকভাবে ভাঙন হয়ে গিয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখন একটি ছোট গোষ্ঠীর নেত্রী। এই পরিস্থিতির জন্য অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের একনায়কতান্ত্রিক আচরণই দায়ী।”
তিনি আরও বলেন, দলকে বাঁচাতে হলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বড় ধরনের সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
বিজেপি সাংসদ দিনেশ শর্মা বলেন, “তৃণমূল কংগ্রেস আর রাজনৈতিক দল নয়, এটি দুর্নীতি, শোষণ এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের একটি গোষ্ঠীতে পরিণত হয়েছে। দলটি একটি পরিবারের স্বার্থে পরিচালিত হয়েছে।”
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করে তিনি বলেন, “পরিবারের এক সদস্য নিজের স্বার্থে শুধু দলকেই নয়, সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের প্রতিও অবিচার করেছেন।”
উত্তরপ্রদেশের মন্ত্রী ও ওম প্রকাশ রাজভর বলেন, “তৃণমূলের মধ্যে যে একনায়কতন্ত্র, হিটলারসুলভ মনোভাব ও দাদাগিরি চলছিল, তাতে অতিষ্ঠ হয়েই অনেক নেতা দল ছেড়েছেন।”
তিনি দাবি করেন, “ভোটাররাও তৃণমূল থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। এখন বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসায় অনেক নেতা পরিবর্তন চাইছেন এবং আলাদা গোষ্ঠী গড়ছেন।”
পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রী ও বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ বলেন, “এটাই ছিল তৃণমূলের ভবিষ্যৎ। তৃণমূল কংগ্রেস নামটাই মুছে ফেলা উচিত। গত ১৫ বছরে এই নাম বাংলাকে ধ্বংস করেছে। মানুষ আর এই নাম শুনতে বা দেখতে চায় না।”
বিজেপি মুখপাত্র টি. আর. শ্রীনিবাস বলেন, “পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূলের ভাঙন এখন একটি চলমান ওয়েব সিরিজের মতো। দলছুট সাংসদ ও বিধায়করাও বুঝতে পেরেছেন যে মানুষের পাশে থাকতে হলে কাটমানি, মাফিয়াতন্ত্র ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।”



















