মুম্বই, ৪ জুন (আইএএনএস): শরীরের ওজন নিয়ে ছোটবেলায় নানা কটূক্তি ও বিদ্রূপের শিকার হতে হয়েছিল অভিনেতা-প্রযোজক জ্যাকি ভাগনানি-কে। সম্প্রতি নেহা ধুপিয়া এবং অঙ্গদ বেদী-র চ্যাট শো ডাবল ডেট-এ স্ত্রী রাকুল প্রীত সিং-এর সঙ্গে উপস্থিত হয়ে সেই কঠিন সময়ের কথা খোলামেলাভাবে ভাগ করে নেন তিনি।
জ্যাকি জানান, এক সময় তাঁর ওজন ছিল প্রায় ১৫০ কিলোগ্রাম। অতিরিক্ত ওজনের কারণে তাঁকে প্রায়ই নানা রকম অস্বস্তিকর মন্তব্য ও উপহাসের মুখে পড়তে হতো।
একটি ঘটনার কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, “আমার এখনও মনে আছে, যখন খিলাড়িওঁ কা খিলাড়ি ছবিটি তৈরি হচ্ছিল, তখন প্রযোজকদের মধ্যে আলোচনা চলছিল যে ছবির জন্য বিখ্যাত ডব্লিউডব্লিউএফ রেসলার ইয়োকোজুনা-কে ভারতে আনা হচ্ছে। সেই সময় বিষয়টি নিয়ে যথেষ্ট চর্চা ছিল।”
তিনি আরও বলেন, “সেই ধরনেরই এক আলোচনার সময় এক আত্মীয় আমার বাবাকে বলেছিলেন, ‘ইয়োকোজুনাকে বাইরে থেকে আনার কী দরকার? আপনার বাড়িতেই তো একজন আছে।’”
জ্যাকির কথায়, “ছোটবেলায় হয়তো সবার সামনে হেসে উড়িয়ে দেওয়া যায়, কিন্তু এই ধরনের কথা মনে গভীর দাগ রেখে যায়।”
শরীর নিয়ে বিদ্রূপ বা ‘বডি শেমিং’-এর প্রভাব সম্পর্কেও কথা বলেন অভিনেতা। তাঁর মতে, “এই দেশে কেউ যদি অতিরিক্ত ওজনের হয় বা গায়ের রং শ্যামলা হয়, তাহলে অনেকেই তাকে নিয়ে মজা করতে দ্বিধা করেন না। বড় হওয়ার সময় আপনি নিজেও অনেক সময় সেই হাসি-ঠাট্টার অংশ হয়ে যান। কোথাও কেউ হাসলে মনে হয়, হয়তো আমাকে নিয়েই হাসছে। অথচ বাস্তবে সেই ব্যক্তি হয়তো আমাকে চিনেও না।”
অভিনেতা হওয়ার স্বপ্নের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন জ্যাকি। তিনি জানান, বাবার সঙ্গে চলচ্চিত্র প্রযোজনার কাজে যুক্ত থাকার সময় একদিন তিনি অভিনেতা হওয়ার ইচ্ছার কথা প্রকাশ করেছিলেন।
জ্যাকির কথায়, “আমি বাবাকে বলেছিলাম যে আমি অভিনেতা হতে চাই। তখন তিনি খুব সৎভাবেই বলেছিলেন, ‘তোমার বর্তমান অবস্থায় আমি তোমাকে লঞ্চ করতে পারব না।’ সেই সময় কথাটা খুব কষ্ট দিয়েছিল। কিন্তু এখন বুঝি, তিনি আসলে আমাকে সুস্থ ও নিয়মানুবর্তী জীবনের দিকে এগিয়ে যেতে উৎসাহিত করতে চেয়েছিলেন।”



















