নয়াদিল্লি, ৩ জুন (আইএএনএস): দিল্লির মালব্য নগরে বহুতল ‘লেমন গ্রিন’ রেস্তোরাঁয় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২১-এ পৌঁছেছে। দক্ষিণ দিল্লির মহকুমাশাসক (এসডিএম) জিতেন্দ্র কুমার বুধবার এই তথ্য জানিয়েছেন। তিনি জানান, উদ্ধার হওয়া ৪৭ জনের মধ্যে বর্তমানে ২৬ জন বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
আইএএনএস-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জিতেন্দ্র কুমার বলেন, “আমাদের তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান দুপুর ১২টা ১২ মিনিটে শেষ হয়েছে। মোট ৪৭ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ২৬ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন।”
এদিকে, অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্সেস (এইমস), দিল্লি জানিয়েছে যে তাদের হাসপাতালে মোট ১৩ জনকে ভর্তি করা হয়েছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, তাঁদের মধ্যে তিনজন উচ্চতা থেকে পড়ে আহত হয়েছেন। প্রাণ বাঁচাতে তাঁরা ভবনের উপরতলা থেকে ঝাঁপ দিয়েছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
এইমস ট্রমা সেন্টার আরও জানিয়েছে, ভর্তি হওয়া ১৩ জনের মধ্যে ১০ জনই উদ্ধারকাজে যুক্ত ছিলেন এবং তাঁরা সকলেই দিল্লি পুলিশের কর্মী।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তিনটি মৃতদেহ বার্নস ও প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগে পাঠানো হয়েছে।
ঘটনায় রাজনৈতিক মহল থেকেও শোকপ্রকাশ করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই মর্মান্তিক ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করে মৃতদের পরিবারপিছু ২ লক্ষ টাকা আর্থিক সহায়তার ঘোষণা করেছেন।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সমাজমাধ্যম এক্স-এ লিখেছেন, “মালব্য নগরের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আমি গভীরভাবে মর্মাহত। স্থানীয় প্রশাসন ত্রাণ ও উদ্ধারকাজে নিয়োজিত রয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “এই হৃদয়বিদারক ঘটনায় যাঁরা তাঁদের প্রিয়জনদের হারিয়েছেন, তাঁদের প্রতি আমার গভীর সমবেদনা রইল। ঈশ্বর যেন শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলিকে এই দুঃখ সহ্য করার শক্তি দেন। আহতদের সর্বোত্তম চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং তাঁদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করছি।”
লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী ঘটনাটিকে “অত্যন্ত হৃদয়বিদারক” বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি শোকপ্রকাশের পাশাপাশি কংগ্রেস কর্মীদের ত্রাণ ও উদ্ধারকাজে সর্বতোভাবে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়েছেন।
আম আদমি পার্টির জাতীয় আহ্বায়ক অরবিন্দ কেজরিওয়ালও মৃতদের আত্মার শান্তি কামনা করেছেন। তিনি বলেন, “দিল্লিতে ধারাবাহিক অগ্নিকাণ্ড এবং নিরীহ মানুষের মৃত্যু অত্যন্ত উদ্বেগজনক।”
উল্লেখ্য, বুধবার সকালে মালব্য নগরের বহুতল ‘লেমন গ্রিন’ রেস্তোরাঁয় আগুন লাগার পর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। ঘটনাস্থলে দমকল, পুলিশ এবং উদ্ধারকারী দল দীর্ঘক্ষণ অভিযান চালিয়ে আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধার করে।



















