শ্রীনগর, ৩ জুন (আইএএনএস): সন্ত্রাসবাদ-সংক্রান্ত একটি মামলার তদন্তে বুধবার কাশ্মীর উপত্যকার একাধিক স্থানে তল্লাশি অভিযান চালিয়েছে জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশের কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স কাশ্মীর (সিআইকে) শাখা।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, পাকিস্তান-সমর্থিত জঙ্গি নেটওয়ার্ক, স্লিপার সেল, জঙ্গি নিয়োগ, উগ্রপন্থায় প্ররোচনা এবং সন্ত্রাসবাদে সহায়তার সঙ্গে জড়িত কার্যকলাপের তদন্তের অংশ হিসেবেই এই অভিযান চালানো হচ্ছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শ্রীনগরের সিআইকে থানায় নথিভুক্ত এফআইআর নম্বর ০২/২০১৫-এর ভিত্তিতে এই তল্লাশি চলছে। মামলাটি বিদেশি নাগরিক আইন-এর ১৪ নম্বর ধারা, বেআইনি কার্যকলাপ (নিবারণ) আইন (ইউএপিএ)-এর ১৫, ১৬, ১৭ ও ১৯ নম্বর ধারা এবং অস্ত্র আইনের ৭/২৫ ধারায় রুজু করা হয়েছে।
পুলিশের এক আধিকারিক বলেন, সাম্প্রতিক গোয়েন্দা তথ্য, প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ এবং দীর্ঘমেয়াদি তদন্তের ভিত্তিতে মোট আটটি তল্লাশি স্থানের চিহ্নিতকরণ করা হয়েছে। এর মধ্যে শ্রীনগরে দুটি, বান্দিপোরায় দুটি এবং অনন্তনাগ, কুলগাম, কুপওয়ারা ও বারামুল্লা জেলার সোপোর এলাকায় একটি করে স্থান রয়েছে।
তদন্তে উঠে এসেছে যে, সন্দেহভাজন ব্যক্তিরা এনক্রিপ্টেড যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি পরিচালকদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিলেন। তাঁদের বিরুদ্ধে উগ্রপন্থী প্রচার, যুবকদের চরমপন্থায় প্ররোচিত করা এবং সন্ত্রাসবাদী কর্মকাণ্ডে সহায়তার অভিযোগও রয়েছে।
তল্লাশির মূল উদ্দেশ্য হল সন্দেহজনক নথি ও সামগ্রী উদ্ধার, জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে সম্ভাব্য যোগসূত্রের প্রমাণ সংগ্রহ, সহযোগী ও ওভারগ্রাউন্ড ওয়ার্কারদের (ওজিডব্লিউ) চিহ্নিত করা এবং তদন্তকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য কার্যকর গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করা।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযানের আগে সমস্ত আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট আদালত থেকে তল্লাশি পরোয়ানা নেওয়া হয়েছে। পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও প্রযুক্তিগত সহায়তার মাধ্যমে আইনসম্মতভাবেই অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।
উল্লেখ্য, জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশের কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স শাখা রাজ্যের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)-এর অধীনে কাজ করে। সন্ত্রাসবাদ, নাশকতা, রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপ এবং জঙ্গি নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত মামলাগুলির তদন্তের দায়িত্ব এই শাখার উপর ন্যস্ত।
সন্ত্রাসবাদ-সংক্রান্ত মামলার এফআইআর নথিভুক্তকরণ ও তদন্তের জন্য সিআইকের নিজস্ব থানাও রয়েছে।
______



















