গান্ধীনগর, ২১ জুলাই (আইএএনএস): নারী ও শিশুদের সাইবার অপরাধ থেকে সুরক্ষিত রাখতে গুজরাট পুলিশ রাজ্যজুড়ে মাসব্যাপী ‘অপারেশন সুরক্ষিত সাইবারস্পেস’ অভিযানের প্রথম দুই সপ্তাহে ৫,০০০-রও বেশি সচেতনতামূলক কর্মসূচির আয়োজন করেছে। সেক্সটরশন, ডিপফেক, সাইবার স্টকিং এবং অনলাইন গ্রুমিংয়ের মতো ক্রমবর্ধমান ডিজিটাল অপরাধ সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
রাজ্য সরকারের সাইবার নিরাপত্তা অভিযানের অংশ হিসেবে শুরু হওয়া ২৮ দিনের এই কর্মসূচির উদ্দেশ্য নিরাপদ ডিজিটাল ব্যবহার নিশ্চিত করা, পাশাপাশি সচেতনতা বৃদ্ধি, অপরাধ প্রতিরোধ, আইন প্রয়োগ এবং ভুক্তভোগীদের সহায়তা জোরদার করা।
গুজরাট পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, অভিযানের প্রথম পাক্ষিকে শি-টিম এবং সাইবার সেল যৌথভাবে মোট ৫,২৮৯টি সচেতনতামূলক কর্মসূচি পরিচালনা করেছে।
পুলিশ মহাপরিচালক (ডিজিপি) জি. এস. মালিকের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এই অভিযানে জনসচেতনতা, প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি, ভুক্তভোগীদের সহায়তা, সাইবার শিক্ষা এবং দ্রুত আইনি পদক্ষেপকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
সিআইডি ক্রাইম (উইমেন সেল)-এর অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিচালক (এডিজিপি) অজয় চৌধুরী বলেন, ডিজিটাল যুগে নারী ও শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। তিনি জানান, ‘অপারেশন সুরক্ষিত সাইবারস্পেস’-এর মাধ্যমে ডিপফেক, সেক্সটরশনসহ বিভিন্ন সাইবার হুমকি সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করে আরও নিরাপদ ডিজিটাল পরিবেশ গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ গুজরাট পুলিশ।
অভিযানের প্রথম সপ্তাহে ১,৮৭৪টি সচেতনতামূলক কর্মসূচির মধ্যে ছিল ১৮৫টি রাজ্যব্যাপী উদ্বোধনী অনুষ্ঠান, ৪৩৮টি স্কুলভিত্তিক ‘সাইবার সেফটি ডে’, ৩৩৬টি কিশোরী দিবস কর্মসূচি, ৩১৮টি অভিভাবক সচেতনতা শিবির এবং ২৮১টি শিক্ষক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি। এছাড়া কলেজে ২০৭টি সাইবার সচেতনতা কর্মসূচি এবং বিভিন্ন জেলায় ১০৯টি সাইবার র্যালির আয়োজন করা হয়।
দ্বিতীয় সপ্তাহে নির্দিষ্ট ধরনের সাইবার অপরাধ প্রতিরোধে জোর দিয়ে মোট ৪,১৭২টি বিষয়ভিত্তিক কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে সামাজিক মাধ্যমের নিরাপদ ব্যবহার নিয়ে ৭৪৩টি, ডিপফেক প্রতিরোধে ৫৭৮টি, সাইবার স্টকিং রোধে ৫১৪টি এবং ‘অ্যান্টি-সেক্সটরশন ডে’ উপলক্ষে ৫২০টি সচেতনতামূলক কর্মসূচি ছিল। পাশাপাশি অনলাইন গেমিং নিরাপত্তা নিয়ে ৫১২টি, অনলাইন গ্রুমিং প্রতিরোধে ৪৬৬টি এবং প্রত্যন্ত এলাকায় ৪৬১টি জনসচেতনতামূলক শিবিরের আয়োজন করা হয়।
এই অভিযানের অংশ হিসেবে কনস্টেবল থেকে শুরু করে পুলিশ পরিদর্শক পর্যন্ত প্রতিটি স্তরের পুলিশকর্মীদের নির্দিষ্ট দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সচেতনতা বৃদ্ধি, অপরাধ প্রতিরোধ, আইন প্রয়োগ, তদন্তের মান এবং জনবিশ্বাস—এই পাঁচটি মানদণ্ডে তাঁদের কাজের মূল্যায়ন করা হবে।
গুজরাট পুলিশ সাইবার অপরাধ বা অনলাইন হয়রানির শিকার ব্যক্তিদের দ্রুত জাতীয় সাইবার হেল্পলাইনে যোগাযোগ করে অভিযোগ জানানোর আহ্বান জানিয়েছে, যাতে সময়মতো প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া যায়।



















