নয়াদিল্লি, ২১ জুলাই (আইএএনএস): নিট-ইউজি প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে আন্দোলনরত ছাত্রছাত্রীদের বিরুদ্ধে দিল্লি পুলিশের পদক্ষেপকে ঘিরে মঙ্গলবার সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশনের দ্বিতীয় দিনেও কেন্দ্র সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানাল সমাজবাদী পার্টি ও কংগ্রেস। বিরোধী নেতারা পুলিশি পদক্ষেপের তুলনা করেন অ্যাডলফ হিটলারের শাসন এবং জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে।
৩ মে-র নিট প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র নেতৃত্বে বহু মানুষ সংসদ অভিযানের চেষ্টা করেন। সেই কর্মসূচিকে ঘিরেই সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি হয়।
সংসদ ভবনের বাইরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সমাজবাদী পার্টির সভাপতি তথা সাংসদ অখিলেশ যাদব বলেন, “স্বাধীনতার পর কোনও নির্বাচিত সরকারের কাছ থেকে এমন আচরণ কেউ কল্পনাও করতে পারেনি। বহু মানুষের মাথায় গুরুতর আঘাত লেগেছে, সেলাই করতে হয়েছে, কারও হাড় ভেঙেছে, আবার কাঁদানে গ্যাসও ব্যবহার করা হয়েছে।”
তিনি আরও দাবি করেন, চিকিৎসকদের মতে, আহতদের মধ্যে অনেকের মাথার খুলি ফেটে গিয়েছে। তাঁদের চিকিৎসার দায়িত্ব সরকারেরই নেওয়া উচিত। বিজেপি সরকারের সমালোচনা করে অখিলেশ বলেন, “হিটলার এভাবেই আচরণ করতেন। এখন বিজেপি সরকারের আমলে সেই দৃশ্যই দেখা যাচ্ছে। গণতন্ত্রে এটি কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”
কংগ্রেস সাংসদ জেবি ম্যাথার পুলিশি পদক্ষেপের তুলনা করেন ১৯১৯ সালের জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে। তাঁর বক্তব্য, “ব্রিটিশরা গুলি চালিয়ে ভারতীয়দের কণ্ঠরোধ করতে চেয়েছিল। ব্রিটিশরা চলে গেলেও সেই মানসিকতা রয়ে গেছে। ২০২৬ সালে যন্তর মন্তরে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে নামা ছাত্রছাত্রীদের ব্যারিকেড, লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাসের মুখে পড়তে হয়েছে। এটা কখনওই গ্রহণযোগ্য নয়। প্রশ্ন তোলার অধিকার ছাত্রছাত্রীদের রয়েছে।”
কংগ্রেস সাংসদ কার্তি চিদম্বরম বলেন, দেশের দায়িত্ব একটি স্বচ্ছ, নির্ভরযোগ্য এবং সুষ্ঠু পরীক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা। কিন্তু প্রশ্নফাঁসের পুনরাবৃত্তি প্রমাণ করছে যে পরীক্ষাব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। তাঁর অভিযোগ, শিক্ষামন্ত্রী, সংশ্লিষ্ট সচিব কিংবা ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (এনটিএ)—কাউকেই জবাবদিহির আওতায় আনা হচ্ছে না।
কংগ্রেস সাংসদ দীপেন্দর হুডা বলেন, দেশের যুবসমাজের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গিয়েছে। তাঁর অভিযোগ, সরকার ছাত্রদের আস্থায় নেওয়ার পরিবর্তে পুলিশি দমননীতি বেছে নিয়েছে। তিনি জানতে চান, দিল্লি পুলিশ কমিশনারের নির্দেশে এত ব্যাপক লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করা হয়েছে কি না।
কংগ্রেসের কে.সি. বেণুগোপালও প্রশ্ন তোলেন, “কতজন ছাত্রছাত্রী এখন হাসপাতালে? তাঁদের অপরাধ কী? শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করাও কি এই দেশে নিষিদ্ধ?”
দলের আর এক সাংসদ প্রণীতি শিন্ডে বলেন, “এই ছাত্রছাত্রীরা আমাদেরই দেশের নাগরিক। নিজেদের দেশের মানুষকে যদি এভাবে দমন করা হয়, তাহলে ক্ষমতায় থাকার নৈতিক অধিকার কোথায়?”
এদিকে, কংগ্রেস নেতা পবন খেরা অভিযোগ করেন, রাজ্যসভায় বিরোধী দলনেতা মল্লিকার্জুন খাড়গেকে ছাত্র আন্দোলনে পুলিশি পদক্ষেপের বিষয়টি তুলতে বাধা দিয়েছেন শাসক জোটের সাংসদরা। তিনি দাবি করেন, দিল্লি পুলিশের পদক্ষেপ নিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সংসদের দুই কক্ষেই বিবৃতি দেওয়া উচিত। পাশাপাশি প্রশ্নফাঁস এবং ছাত্রছাত্রীদের আত্মহত্যার ঘটনাও আলোচনায় অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানান তিনি।
– আইএএনএস



















