দাতিয়া, ২১ জুলাই (আইএএনএস): মধ্যপ্রদেশের দাতিয়া বিধানসভা উপনির্বাচনকে সামনে রেখে প্রচারে গতি বাড়াল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। মঙ্গলবার বুথভিত্তিক জনসংযোগ কর্মসূচি শুরু করার পাশাপাশি ১৫টি প্রচারযানের উদ্বোধন করে দলটি। ৩০ জুলাইয়ের ভোটকে সামনে রেখে সাংগঠনিক শক্তি আরও মজবুত করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য বলে জানিয়েছে বিজেপি।
দাতিয়ায় দলের নির্বাচনী কার্যালয় থেকে মধ্যপ্রদেশের বিজেপির দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা মহেন্দ্র সিং প্রচারযানগুলির সূচনা করেন। দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ছয়টি মণ্ডল, ২৯১টি ভোটকেন্দ্র এবং ৪৬টি শক্তি কেন্দ্র জুড়ে মানুষের উৎসাহই প্রমাণ করছে যে বিজেপি প্রার্থী আশুতোষ শুক্লা বড় ব্যবধানে জয়ী হবেন।
দলীয় সূত্রের দাবি, এই প্রচারযানগুলি শহর ও গ্রামীণ এলাকায় ঘুরে বিজেপির প্রচার কর্মসূচি মানুষের কাছে পৌঁছে দেবে এবং ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়াবে।
এর পাশাপাশি বুথ ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর করতে প্রাক্তন মন্ত্রী, প্রাক্তন বিধায়ক এবং দলের প্রবীণ সাংগঠনিক নেতাদের বিভিন্ন ‘শক্তি কেন্দ্র’-এর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি শক্তি কেন্দ্রে চার থেকে ছয়টি ভোটকেন্দ্র অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। প্রতিটি শক্তি কেন্দ্রের জন্য একজন ইনচার্জ ও একজন সংগঠক নিয়োগ করা হয়েছে, যাঁরা বুথকর্মীদের সমন্বয়, প্রচার কার্যক্রম এবং ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগের দায়িত্ব পালন করবেন।
এই ব্যবস্থা দাতিয়া শহর, দাতিয়া গ্রামীণ, ভাণ্ডের, বাদৌনি, ইন্দরগড় এবং সেওন্ধা—এই ছয়টি সাংগঠনিক মণ্ডল জুড়ে কার্যকর করা হয়েছে। বিজেপির দাবি, এর ফলে তৃণমূল স্তরে সমন্বয় আরও শক্তিশালী হবে এবং ভোটের দিন বুথ পরিচালনা আরও সুষ্ঠুভাবে করা সম্ভব হবে।
অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশন ৮৫ বছরের বেশি বয়সী ভোটার এবং বিশেষভাবে সক্ষম ভোটারদের জন্য বাড়িতে গিয়ে ভোটগ্রহণের প্রস্তুতিও সম্পন্ন করেছে। ২২ ও ২৩ জুলাই নির্বাচনকর্মীরা সংশ্লিষ্ট ভোটারদের বাড়িতে গিয়ে ভোট গ্রহণ করবেন। জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, নির্ধারিত আবেদনপত্র জমা দেওয়ার পর মোট ৮৬ জন ভোটার এই সুবিধা নেওয়ার জন্য আবেদন করেছেন। এই প্রক্রিয়া পরিচালনার জন্য গোটা বিধানসভা কেন্দ্রকে সাতটি সেক্টরে ভাগ করা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের ঘোষণা অনুযায়ী, দাতিয়া বিধানসভা উপনির্বাচনের ভোটগ্রহণ হবে ৩০ জুলাই এবং ভোটগণনা অনুষ্ঠিত হবে ৩ আগস্ট।
এই উপনির্বাচনে বিজেপির প্রার্থী আশুতোষ শুক্লা, আর কংগ্রেস প্রার্থী করেছে প্রাক্তন বিধায়ক ঘনশ্যাম সিংকে। উভয় দলই জোরকদমে প্রচার চালাচ্ছে। বিজেপি যেখানে নিজেদের শক্তিশালী সাংগঠনিক নেটওয়ার্ক ও বুথভিত্তিক প্রচারের ওপর ভরসা করছে, সেখানে কংগ্রেস এই গুরুত্বপূর্ণ লড়াইয়ে নির্বাচনী সাফল্য অর্জনের লক্ষ্য নিয়ে প্রচার জোরদার করেছে।
– আইএএনএস



















