News Flash

Image

রাষ্ট্রপতির ‘পুলিশ কালার’ সম্মানে ভূষিত সিকিম পুলিশ

গ্যাংটক, ২৮ মে (আইএএনএস): সিকিম পুলিশকে দেশের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ সম্মান ‘প্রেসিডেন্ট অব ইন্ডিয়া’স পুলিশ কালার’ প্রদান করলেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। বৃহস্পতিবার গ্যাংটকে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এই সম্মান তুলে দেন।

রাজ্যে শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন, পেশাদারিত্ব এবং সাধারণ মানুষের প্রতি পুলিশকর্মীদের সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণের স্বীকৃতি হিসেবেই সিকিম পুলিশকে এই সম্মান দেওয়া হয়েছে। পুলিশের এই জনমুখী ভূমিকার জন্য রাজ্যের মানুষের মধ্যে তাদের প্রতি বিশেষ শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা তৈরি হয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়।

রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু সিকিম পুলিশের বর্তমান ও প্রাক্তন সমস্ত আধিকারিক এবং কর্মীদের অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, ১৮৯৭ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই সিকিম পুলিশ রাজ্যে শান্তি, নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।

রাষ্ট্রপতি বলেন, ভারতের পুলিশ ব্যবস্থা দীর্ঘ ঔপনিবেশিক শাসনের প্রভাব বহন করছে। সেই সময়ে পুলিশের মূল উদ্দেশ্য ছিল সাধারণ মানুষের সেবা নয়, বরং তাঁদের নিয়ন্ত্রণ করা এবং শাসকদের নির্দেশ কঠোরভাবে কার্যকর করা।

তিনি আরও বলেন, সেই ঔপনিবেশিক মানসিকতা পুলিশ ব্যবস্থার মধ্যেও গভীরভাবে প্রোথিত হয়েছিল, যার ফলে জনগণের সঙ্গে সহযোগিতামূলক সম্পর্ক গড়ে ওঠার বদলে শাসকসুলভ মনোভাব তৈরি হয়েছিল।

বর্তমান সময়ে পুলিশ ব্যবস্থার মানসিকতার পরিবর্তনকে স্বাগত জানিয়ে রাষ্ট্রপতি জোর দিয়ে বলেন, নাগরিকদের প্রকৃত অর্থে ক্ষমতায়িত করতে হলে এই ঔপনিবেশিক মানসিকতা পুরোপুরি ত্যাগ করা প্রয়োজন।

রাষ্ট্রপতির কথায়, “তবেই দেশের নাগরিকেরা ‘বিকশিত ভারত’-এর লক্ষ্যে পৌঁছতে আন্তরিকভাবে অংশ নিতে পারবেন।”

তিনি আরও বলেন, পুলিশ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণ মানুষ যাতে ভয় ছাড়াই নিজেদের অভিযোগ জানাতে পারেন, সেই কারণে পুলিশকে আরও বেশি জনবান্ধব হতে হবে।

বিশেষ করে নারী, শিশু এবং সমাজের দুর্বল অংশের প্রতি সংবেদনশীল মনোভাব গ্রহণের উপরও জোর দেন রাষ্ট্রপতি।

পুলিশকর্মীদের উদ্দেশে দ্রৌপদী মুর্মু বলেন, তাঁদের শুধু আইনরক্ষক হিসেবে নয়, সাধারণ মানুষের “সহযোগী ও পথপ্রদর্শক” হিসেবেও গড়ে উঠতে হবে। তবেই জনগণ ও পুলিশের মধ্যে পারস্পরিক বিশ্বাস আরও দৃঢ় হবে।

তিনি বলেন, পুলিশের কাজ শুধু অপরাধীদের গ্রেফতার করা নয়, বরং একটি নিরাপদ ও সামাজিকভাবে সচেতন সমাজ গড়ে তোলাও পুলিশের অন্যতম দায়িত্ব।

Releated Posts

জনসংখ্যাগত পরিবর্তন খতিয়ে দেখতে উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন ‘ঐতিহাসিক’, মোদীকে ধন্যবাদ মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রীর

ইম্ফল, ২৭ মে (আইএএনএস): দেশে জনসংখ্যাগত পরিবর্তন নিয়ে সমীক্ষার জন্য কেন্দ্রের উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠনের সিদ্ধান্তকে ‘ঐতিহাসিক’ বলে উল্লেখ…

ByByNews Desk May 27, 2026

মণিপুরে ছয় নাগা গ্রামবাসী অপহরণকাণ্ডে এনআইএ তদন্তের ঘোষণা

ইম্ফল, ২৩ মে (আইএএনএস): মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রী ইয়ুমনাম খেমচাঁদ সিং শনিবার ঘোষণা করেছেন যে, ছয় নাগা গ্রামবাসী অপহরণের ঘটনায়…

ByBySandeep Biswas May 23, 2026

মণিপুরের নিরাপত্তা পরিস্থিতির জেরে আটকে থাকা ১৩২ এনসিসি ক্যাডেটকে বিমানপথে অসমে সরাল বায়ুসেনা

ইম্ফল, ২৩ মে: মণিপুরের বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতির মধ্যে সেখানে আটকে থাকা ১৩২ জন এনসিসি ক্যাডেটকে শনিবার ভারতীয় বায়ুসেনার…

ByBySandeep Biswas May 23, 2026

উত্তর-পূর্বের উপজাতীয় ঐতিহ্য রক্ষায় সম্মিলিত উদ্যোগের আহ্বান নাগাল্যান্ডের রাজ্যপালের

কোহিমা, ২২ মে (আইএএনএস): উত্তর-পূর্ব ভারতের উপজাতীয় ঐতিহ্য সংরক্ষণ, নথিভুক্তকরণ, প্রচার এবং আধুনিক সমাজের প্রেক্ষাপটে নতুনভাবে উপস্থাপনের লক্ষ্যে…

ByBySandeep Biswas May 22, 2026

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top