কলকাতা, ২০ মে (আইএএনএস): রাজনৈতিক সৌজন্যের নজির তৈরি করে উত্তরবঙ্গের আট জেলার বিরোধী দল তৃণমূল কংগ্রেসের নির্বাচিত বিধায়কদের প্রশাসনিক পর্যালোচনা বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। বুধবার দার্জিলিং জেলার শিলিগুড়িতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সভাপতিত্বে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।
মুখ্যমন্ত্রীর দফতরের (সিএমও) এক আধিকারিক জানিয়েছেন, “উত্তরবঙ্গের আট জেলায় বিরোধী দল হিসেবে একমাত্র তৃণমূল কংগ্রেসেরই নির্বাচিত বিধায়ক রয়েছেন। সেই অনুযায়ী দলের মোট ১৪ জন বিধায়ককে বৈঠকে উপস্থিত থাকার জন্য আমন্ত্রণ পাঠানো হয়েছে।”
জানা গিয়েছে, এই আমন্ত্রণ পাঠানোর ক্ষেত্রে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিজেই বিশেষ আগ্রহ দেখান। তাঁর মতে, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় বিরোধী বিধায়কদের মতামত গ্রহণ এবং জনস্বার্থমূলক বিষয়ে তাঁদের সম্পৃক্ত করা একটি সুস্থ ও প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে নতুন মুখ্যমন্ত্রী তাঁর পূর্বসূরি মমতা ব্যানার্জী-কেও পরোক্ষ বার্তা দিতে চেয়েছেন। পর্যবেক্ষকদের দাবি, ২০১১ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত তাঁর ১৫ বছরের শাসনকালে সরকারি অনুষ্ঠানে কোনও বিরোধী বিধায়ককে আমন্ত্রণ জানানোর নজির ছিল না।
একইসঙ্গে মনে করিয়ে দেওয়া হচ্ছে যে, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসু এবং বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য-র আমলে সরকারি অনুষ্ঠানে বিরোধী বিধায়কদের আমন্ত্রণ জানানোর রীতি চালু ছিল। তবে তৃণমূল কংগ্রেসের ১৫ বছরের শাসনকালে সেই প্রথা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায় বলে রাজনৈতিক মহলের দাবি। বর্তমান বিজেপি সরকারের আমলে সেই প্রথা আবার চালু হল বলে মনে করা হচ্ছে।
উত্তরবঙ্গের আট জেলার মধ্যে তৃণমূলের ১৪ বিধায়কের মধ্যে একজন কোচবিহারের, পাঁচজন উত্তর দিনাজপুরের, দু’জন দক্ষিণ দিনাজপুরের এবং ছয়জন মালদার। অন্যদিকে দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ার—এই চার জেলায় তৃণমূলের কোনও বিধায়ক নেই।
প্রশাসনিক বৈঠক শেষে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কলকাতায় ফেরার কথা রয়েছে। পরে তিনি রাজ্যের বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের জন্য জমি হস্তান্তর প্রক্রিয়া নিয়ে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর শীর্ষ কর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করতে পারেন।
_______



















