গুয়াহাটি, ১৯ মে (আইএএনএস): অসম ও মনিপুরের মধ্যে বহু শতাব্দী প্রাচীন সাংস্কৃতিক ও আধ্যাত্মিক সম্পর্কের কথা তুলে ধরে মঙ্গলবার হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেন, দুই উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যের বৈষ্ণব ঐতিহ্য এখনও এই অঞ্চলের অভিন্ন সভ্যতা ও সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকারের ভিত্তিকে আরও মজবুত করছে।
সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স-এ একটি ভিডিও পোস্ট করে মুখ্যমন্ত্রী জানান, অসমের নাগাঁও জেলার ঐতিহাসিক ধর্মীয় স্থান শ্রী শ্রী বাটাদ্রব থান — মধ্যযুগীয় সমাজসংস্কারক মহাপুরুষ শ্রীমন্ত শঙ্করদেব-এর জন্মস্থান — আবারও অসম ও মনিপুরের সাংস্কৃতিক ঐক্যের বার্তা তুলে ধরেছে।
হিন্দিতে করা পোস্টে তিনি লেখেন, “অসম ও মনিপুর বৈষ্ণব ঐতিহ্যের মাধ্যমে গভীরভাবে যুক্ত। মহাপুরুষ শ্রীমন্ত শঙ্করদেবের জন্মভূমি শ্রীশ্রী বাটদ্রবা থান-এ অসমের ‘খোল’ এবং মনিপুরের ‘পুং’-এর সুর আবারও উত্তর-পূর্বের সাংস্কৃতিক ঐক্যকে জীবন্ত করে তুলেছে।”
ভিডিওটিতে দুই রাজ্যের ভক্তিমূলক পরিবেশনা এবং ঐতিহ্যবাহী বাদ্যযন্ত্রের অনুষ্ঠান তুলে ধরা হয়।
অসম ও মনিপুরের এই সাংস্কৃতিক সম্পর্কের শিকড় বহু শতাব্দী পুরোনো। ইতিহাসবিদদের মতে, ১৫ ও ১৬ শতকে শ্রীমন্ত শঙ্করদেবের নেতৃত্বে অসমে শুরু হওয়া নব-বৈষ্ণব আন্দোলনের প্রভাব উত্তর-পূর্ব ভারতের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। ভগবান কৃষ্ণকে কেন্দ্র করে ভক্তি, সামাজিক সম্প্রীতি ও আধ্যাত্মিক অন্তর্ভুক্তির বার্তা বহনকারী এই আন্দোলন মনিপুরেও গভীর প্রভাব ফেলেছিল।
পরবর্তীতে ১৮ শতকে তৎকালীন মেইতেই রাজাদের পৃষ্ঠপোষকতায় মনিপুরে বৈষ্ণব ধর্ম আরও সুপ্রতিষ্ঠিত হয়। ধীরে ধীরে অসমের সত্র সংস্কৃতি, ভক্তিমূলক সংগীত এবং পরিবেশন শিল্পের প্রভাব মনিপুরের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক পরম্পরায় মিশে যায়।
অসমের ঐতিহ্যবাহী মৃৎনির্মিত বাদ্যযন্ত্র ‘খোল’ এবং মনিপুরের ভক্তিমূলক নৃত্য-সংগীতের অবিচ্ছেদ্য অংশ ‘পুং’— উভয়ই এই যৌথ বৈষ্ণব ঐতিহ্যের প্রতীক হিসেবে পরিচিত।
বিগত বছরগুলিতে উৎসব, ভক্তিমূলক সংগীত, নৃত্য ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে দুই রাজ্যের সাংস্কৃতিক বিনিময় এই ঐতিহাসিক সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করেছে।



















