আগরতলা, ১৫ মে: দীর্ঘদিনের একাধিক শিক্ষাগত ও প্রশাসনিক সমস্যার প্রতিবাদে শুক্রবার উত্তাল হয়ে উঠল নেতাজি সুভাষ মহাবিদ্যালয় চত্বর। শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়ছে এবং তারা মানসিকভাবে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন— এই অভিযোগ তুলে বিক্ষোভে সামিল হন ছাত্র-ছাত্রীরা।
অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ -এর মহাবিদ্যালয় শাখার উদ্যোগে এদিন কলেজ ক্যাম্পাসের মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করা হয়। পাশাপাশি ত্রিপুরা ইউনিভার্সিটি -এর ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য শ্যামল দাসের কুশপুত্তলিকা তৈরি করে তা দাহ করা হয়। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। বিক্ষোভ কর্মসূচির পর ছাত্র সংগঠনের এক প্রতিনিধি দল সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করে দ্রুত সমস্যার সমাধানের দাবি জানায়।
ছাত্র সংগঠনের অভিযোগ, বহু ছাত্র-ছাত্রী পরীক্ষায় সন্তোষজনকভাবে অংশগ্রহণ করার পরেও ফলাফলে বারবার একই বিষয়ে অকৃতকার্য(ব্যাক) দেখানো হচ্ছে। আবার অনেক ক্ষেত্রে পরীক্ষায় উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও ফলাফলে অনুপস্থিত দেখানো হচ্ছে, যা শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের উপর গুরুতর প্রভাব ফেলছে।
এছাড়াও প্রশাসনিক সমন্বয়ের অভাব নিয়েও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন আন্দোলনকারীরা। তাদের বক্তব্য, কোনো সমস্যা নিয়ে কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে গেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপর দায় চাপানো হয়, আর বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগাযোগ করলে কলেজ প্রশাসনের দিকে আঙুল তোলা হয়। এই দায় এড়ানোর প্রবণতার ফলে সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীরা হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ।
শিক্ষার্থীদের আরও দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে সময়মতো এবং সঠিকভাবে ফলাফল প্রকাশ না হওয়ায় বিভ্রান্তির সৃষ্টি হচ্ছে। বর্তমানে দ্বিতীয়, চতুর্থ ও ষষ্ঠ সেমিস্টারের বহু ছাত্র-ছাত্রী বিভিন্ন কারিগরি ও প্রশাসনিক সমস্যার কারণে ফর্ম ফিল-আপ করতে পারছেন না। ফলে তাদের শিক্ষাজীবন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
শুধু শিক্ষাগত সমস্যা নয়, কলেজের পরিকাঠামোগত উন্নয়নের দাবিও তোলে এবিভিপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে কলেজের নিজস্ব পতাকা চালু ও দ্রুত উত্তোলন, জাতীয় সঙ্গীত পরিচালনার সুষ্ঠু ব্যবস্থা, মাইকিং ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং কলেজের প্রতিটি ভবনে সিসিটিভি ক্যামেরা মেরামত ও সচল করা।
এদিকে, কলেজ কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের আশ্বাস দিয়েছে যে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে উত্থাপিত সমস্যাগুলির সমাধান করা হবে। যদিও ছাত্র সংগঠনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে সমস্যার সমাধান না হলে আগামী দিনে তারা বৃহত্তর আন্দোলনের পথে নামতে বাধ্য হবে।



















