নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ১৪ মে: রাজ্যে পেট্রোল, ডিজেল, এল.পি.জি. সহ নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যদ্রব্যের কোনও ধরনের সংকট নেই। তাই জনগণকে উৎকণ্ঠিত হয়ে পেট্রোল পাম্পগুলিতে অযথা ভিড় না বাড়ানোর জন্য এক সাংবাদিক সম্মেলনে আহ্বান জানিয়েছেন খাদ্য ও ক্রেতাস্বার্থ বিষয়ক মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী।
সচিবালয়ে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে রাজ্যে বিভিন্ন জ্বালানি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যদ্রব্যের মজুত সম্পর্কে বলতে গিয়ে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, আজ খাদ্য দপ্তরের সচিব কে. শশীকুমার, অধিকর্তা সুমিত লোধ, আই.ও.সি.এল., এইচ.পি.সি.এল, বি.পি.সি.এল.-এর প্রতিনিধি, সদর, জিরানীয়া ও মোহনপুর মহকুমার মহকুমা শাসক সহ খাদ্য দপ্তরের বিভিন্ন স্তরের আধিকারিকদের নিয়ে এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে জানানো হয়েছে রাজ্যের ১৪৯টি পেট্রোল পাম্পে পর্যাপ্ত পরিমাণে পেট্রোল, ডিজেল মজুত রয়েছে। রান্নার গ্যাস তথা এল.পি.জি.-এরও কোনও সংকট নেই। তাই এখনই এ সকল জ্বালানি বিক্রিটে রেশনিং ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে না। খাদ্যমন্ত্রী বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে সমগ্র বিশ্বেই জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে। কিন্তু আমাদের দেশ ও রাজ্যেও জ্বালানি সংকট রয়েছে তা সম্পূর্ণ অমূলক ও ভ্রান্ত ধারণা। সংকটের পূর্বেই সাশ্রয়ের মাধ্যমে সংকটকালীন পরিস্থিতিকে সহজতরভাবে মোকাবিলা করার উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সারা দেশের জনগণের উদ্দেশ্যে বার্তা দিয়েছিলেন। সেই বার্তা মাথায় রেখেই আমাদের রাজ্যেও সাশ্রয়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। তার মানে এই নয় যে রাজ্যেও জ্বালানি তেলের সংকট সৃষ্টি হয়েছে। খাদ্যমন্ত্রী সমগ্র রাজ্যবাসীকে আশ্বস্ত করে বলেন, রাজ্যে পর্যাপ্ত পরিমাণেই জ্বালানি তেলের মজুত রয়েছে।
সাংবাদিক সম্মেলনে খাদ্যমন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী বলেন, রাজ্যে রেশনিং ব্যবস্থায় এখনও ৮৪ দিনের চাল, ৫৭ দিনের গম, ২৮ দিনের চিনি, ৩৪ দিনের মুসুর ডাল মজুত রয়েছে। তাছাড়া খোলা বাজারে ৮৪ দিনের চাল, ৩৮ দিনের মুসুর ডাল, ৮৭ দিনের ভোজ্য তেল, ৩২ দিনের পেঁয়াজ, ১৮ দিনের আলু ৩৭ দিনের আটা, ৩১ দিনের চিনি এবং ১২২ দিনের লবণ মজুত রয়েছে। তিনি আরও বলেন, এ সময়ে কেউ যদি সরকারি নিয়মনীতি অমান্য করে জ্বালানি তেল কিংবা নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর কালোবাজারি কিংবা কৃত্রিম সংকট তৈরি করার চেষ্টা করেন তাহলে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। যে কোনও ধরনের কালোবাজারি রুখতে এখন থেকে সময় সময় বিভিন্ন বাজার, পেট্রোল পাম্প পরিদর্শন করার জন্য আজকের এই বৈঠকে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের আধিকারিকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
সাংবাদিক সম্মেলনে বিভিন্ন পেট্রোল পাম্প থেকে বড় বড় ড্রাম দিয়ে জ্বালানি নিয়ে যাওয়া সংক্রান্ত এক সাংবাদিকের প্রশ্নের উত্তরে খাদ্যমন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী বলেন, রাজ্যের উন্নয়নে চলমান বিভিন্ন পরিকাঠামো নির্মাণ কাজের জন্য তেল প্রয়োজন হয়। তাদেরকেই মহকুমা শাসকদের কর্তৃক প্রদত্ত স্লিপের মাধ্যমে তেল দেওয়া হচ্ছে। এক্ষেত্রে আগামীদিনে আরও কঠোর নিয়ম মেনে স্লিপ সরবরাহ করার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতেও সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।



















