রাঁচি, ১৪ মে (আইএএনএস) : দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর বুধবার প্রয়াত হলেন ঝাড়খণ্ডের প্রাক্তন মন্ত্রী ও বর্ষীয়ান রাজনৈতিক নেতা মাধবলাল সিং। রাঁচির বারিয়াতুর পালস হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকাল ৯টা ৫ মিনিটে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর মৃত্যুতে ঝাড়খণ্ডের রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েকদিন ধরে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হচ্ছিল। এরপরই উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে বোকারো থেকে রাঁচিতে স্থানান্তর করা হয়। চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণ ও ধারাবাহিক চিকিৎসা সত্ত্বেও শেষরক্ষা হয়নি।
বোকারো জেলার অন্যতম পরিচিত রাজনৈতিক মুখ ছিলেন মাধব লাল সিং। তিনি গোমিয়া বিধানসভা কেন্দ্র থেকে চারবার বিধায়ক নির্বাচিত হন। ১৯৮৫, ১৯৯০, ২০০০ এবং ২০০৯ সালে তিনি জয়ী হয়েছিলেন। অবিভক্ত বিহারের সময় থেকে ঝাড়খণ্ড গঠনের পরবর্তী সময় পর্যন্ত আঞ্চলিক সমস্যা ও জনস্বার্থের নানা বিষয়ে তিনি সরব ছিলেন।
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি বিহার ও ঝাড়খণ্ড— দুই রাজ্য সরকারেরই মন্ত্রিত্ব সামলেছেন। এছাড়াও তিনি ঝাড়খণ্ড স্টেট রিলিজিয়াস ট্রাস্ট বোর্ডের চেয়ারম্যান পদেও দায়িত্ব পালন করেছিলেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল প্রায় ৭৫ বছর।
ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোকপ্রকাশ করেছেন। সামাজিক মাধ্যমে তিনি লেখেন, “গোমিয়ার প্রাক্তন বিধায়ক এবং অবিভক্ত বিহার ও ঝাড়খণ্ড সরকারের প্রাক্তন মন্ত্রী শ্রদ্ধেয় মাধব লাল সিংয়ের প্রয়াণের খবর অত্যন্ত দুঃখজনক। জনসেবা ও সামাজিক জীবনে তাঁর অবদান দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তাঁর মৃত্যু জনজীবনের এক অপূরণীয় ক্ষতি।”
মুখ্যমন্ত্রী প্রয়াত নেতার আত্মার শান্তি কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবার ও সমর্থকদের এই কঠিন সময় কাটিয়ে ওঠার শক্তি কামনা করেন।
ঝাড়খণ্ড রাজনীতিতে তৃণমূল স্তরের নেতা হিসেবেই পরিচিত ছিলেন মাধব লাল সিং। বিশেষ করে গোমিয়া অঞ্চলে একাধিক গণআন্দোলনের সঙ্গে তিনি ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত ছিলেন। গ্রামীণ এলাকায় তাঁর জনপ্রিয়তা ছিল উল্লেখযোগ্য। সাধারণ, সহজ-সরল ও সৎ নেতা হিসেবেই তিনি পরিচিত ছিলেন।
মন্ত্রিত্বের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলালেও তিনি নিজেকে সবসময় সাধারণ মানুষের প্রতিনিধি হিসেবেই তুলে ধরতেন। এলাকার বহু মানুষ তাঁকে শুধুমাত্র রাজনীতিবিদ নয়, অভিভাবকতুল্য ব্যক্তিত্ব হিসেবেও দেখতেন।
তাঁর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই হাসপাতাল ও তাঁর বাসভবনে ভিড় জমান সমর্থক ও শুভানুধ্যায়ীরা। বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতারাও শোকপ্রকাশ করে তাঁর মৃত্যুতে ঝাড়খণ্ডের রাজনীতিতে এক বড় শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন।



















