বেঙ্গালুরু, ১২ মে (আইএএনএস) : প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী-র মিতব্যয়িতা সংক্রান্ত বার্তা নিয়ে সমালোচনা করার আগে কংগ্রেস নেতাদের নিজেদের দলের ইতিহাস ফিরে দেখা উচিত বলে মন্তব্য করলেন কর্ণাটক বিধানসভার বিরোধী দলনেতা আর অশোক।
মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে বিজেপি নেতা আর অশোক অভিযোগ করেন, ইতিহাস ও অর্থনীতি সম্পর্কে কোনও জ্ঞান না রেখেই কংগ্রেস নেতারা প্রধানমন্ত্রী মোদীর প্রতিটি পদক্ষেপের বিরোধিতা করছেন।
তিনি বলেন, “আজকের কংগ্রেস নেতারা ইতিহাসও বোঝেন না, অর্থনৈতিক প্রশাসন সম্পর্কেও তাঁদের ধারণা নেই। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর প্রতিটি সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করাই যেন তাঁদের নিত্যদিনের কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছে।”
মোদীর মিতব্যয়িতা ও আর্থিক শৃঙ্খলার আহ্বানকে সমর্থন করে আর অশোক বলেন, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে দেশের মানুষের ধৈর্য ও সংযম বজায় রাখা প্রয়োজন। এই ধরনের জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট আহ্বান নিয়ে কংগ্রেস নেতাদের কটাক্ষ করা উচিত নয়।
এই প্রসঙ্গে তিনি প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী-র ১৯৬৭ সালের একটি পুরনো সংবাদপত্রের কাটিংও শেয়ার করেন, যেখানে দেশের অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সাধারণ মানুষকে সোনা না কেনার আবেদন জানানো হয়েছিল।
এছাড়াও তিনি প্রাক্তন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী-এর ২০১৩ সালের একটি ভিডিও ক্লিপ শেয়ার করেন, যেখানে চলতি হিসাব ঘাটতি কমাতে মানুষকে সোনা কেনার প্রবণতা কমানোর আহ্বান জানানো হয়েছিল।
আর অশোক অভিযোগ করেন, ইন্দিরা গান্ধী বা সোনিয়া গান্ধি-র আমলে এই ধরনের অর্থনৈতিক আহ্বানকে কংগ্রেস অর্থনৈতিক নীতি হিসেবে দেখত, কিন্তু প্রধানমন্ত্রী মোদী একই কথা বললে সেটিকে ভুল বলে প্রচার করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, “কংগ্রেস সরকারের সময়ে এমন আবেদন করা হলে তা অর্থনৈতিক নীতি বলে ধরা হত। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী মোদী জাতীয় স্বার্থে একই ধরনের আবেদন করলে কংগ্রেস সেটির বিরোধিতা করছে। এটিই তাদের দ্বিচারিতা।”
দেশের অর্থনীতি নিয়ে রাজনৈতিক মন্তব্য করার আগে কংগ্রেস নেতাদের অর্থনীতির প্রাথমিক ধারণা অর্জনের পরামর্শও দেন বিজেপি নেতা।
উল্লেখ্য, গত রবিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আন্তর্জাতিক অনিশ্চয়তার পরিস্থিতিতে দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ ও ধৈর্যশীল থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, পশ্চিম এশিয়ার চলমান সংকটের প্রভাব গোটা বিশ্বের মতো ভারতের উপরও পড়ছে।
এরপর সোমবার কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী মোদীর বেঙ্গালুরুর বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেন এবং প্রশ্ন তোলেন, তিনি কি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে, নাকি বিজেপির রাজ্য সভাপতি অথবা বিরোধী দলনেতা হিসেবে বক্তব্য রেখেছেন।



















