কলকাতা, ১১ মে : মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকেই ছক্কা হাঁকালেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পাঁচ সতীর্থকে সাথে নিয়ে আজ তাঁর মন্ত্রিসভা একাধিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সোমবার নবান্নে অনুষ্ঠিত বৈঠকের পর সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি জানান, আইন-শৃঙ্খলা, সামাজিক প্রকল্প, সীমান্ত নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং চাকরির ক্ষেত্রে একাধিক নতুন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে রাজ্য সরকার।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হিসেবে পশ্চিমবঙ্গে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (বিএনএস) কার্যকর করার ঘোষণা করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এতদিন অত্যন্ত অবৈধভাবে আইপিসি ও সিআরপিসি চালু ছিল। আজ থেকে পশ্চিমবঙ্গ আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনএস ব্যবস্থার অন্তর্ভুক্ত হল।
এদিন মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে জানান, পূর্ববর্তী সরকারের চালু থাকা কোনও সামাজিক প্রকল্প বন্ধ করা হবে না। তবে মৃত ব্যক্তি বা অবৈধভাবে বসবাসকারী কেউ যাতে এই প্রকল্পগুলির সুবিধা না পান, তা নিশ্চিত করা হবে বলে তিনি জানান।
সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়েও বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য মন্ত্রিসভা। মুখ্যমন্ত্রী জানান, সীমান্তে কাঁটাতার নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় জমি আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে বিএসএফ-এর হাতে তুলে দেওয়া হবে। তিনি বলেন, রাজ্যের জনবিন্যাসে পরিবর্তন এসেছে এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক ও বিএসএফ-কে জমি হস্তান্তরের অনুমোদন ইতিমধ্যেই দেওয়া হয়েছে। এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ভূমি ও রাজস্ব সচিব এবং মুখ্যসচিবকে।
এছাড়াও বহু প্রতীক্ষিত ‘আয়ুষ্মান ভারত’ প্রকল্পেও যুক্ত হল পশ্চিমবঙ্গ। মুখ্যমন্ত্রী জানান, সোমবার থেকেই রাজ্যে এই কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য প্রকল্প কার্যকর হবে। এর ফলে সাধারণ মানুষ কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য বিমার সুবিধা পাবেন।
সরকারি চাকরির ক্ষেত্রেও বড় ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, ২০১৫ সালের পর রাজ্যে দীর্ঘদিন নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধ থাকায় বহু শিক্ষিত যুবক-যুবতীর বয়সসীমা পেরিয়ে গিয়েছে। সেই পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে সরকারি চাকরিতে আবেদনের বয়সসীমা পাঁচ বছর বৃদ্ধি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এর পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গে জনগণনার কাজ শুরু করার সিদ্ধান্তও নিয়েছে নতুন সরকার। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ ১১ মাস ধরে জনগণনার কাজ আটকে ছিল। মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকেই তা শুরু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, প্রধানমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনা, প্রধানমন্ত্রী কৃষক বিমা যোজনা, পিএম শ্রী, বিশ্বকর্মা, বেটি বাঁচাও বেটি পড়াও এবং উজ্জ্বলা যোজনার মতো একাধিক কেন্দ্রীয় প্রকল্পে রাজ্যকে সক্রিয়ভাবে যুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। জেলাশাসকদের দ্রুত সমস্ত আবেদন কেন্দ্রীয় মন্ত্রকে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এদিন নবান্নে নতুন মুখ্যমন্ত্রীকে গার্ড অফ অনার দেওয়া হয়। মুখ্যসচিব দুষ্মন্ত নারিওয়ালা, রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধনাথ গুপ্ত, কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দ-সহ প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকেরা উপস্থিত থেকে মুখ্যমন্ত্রীকে স্বাগত জানান।



















