আগরতলা, ৩০ এপ্রিল: কালবৈশাখীর তাণ্ডব ও টানা মুষলধারে বৃষ্টিতে রাজ্যের বিস্তীর্ণ এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও পাহাড়ি অঞ্চলের জুমচাষীদের মুখে ফুটেছে স্বস্তির হাসি। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর বৃষ্টির দেখা মেলায় জুম লাগানোর প্রস্তুতিতে এখন ব্যস্ত হয়ে উঠেছেন জুমিয়ারা।
প্রতি বছরের মতো ফাল্গুন-চৈত্র মাসে প্রচণ্ড রোদে পাহাড়ি টিলা অঞ্চলে জুম চাষের উপযোগী জমি তৈরি করে রাখেন চাষিরা। বনজঙ্গল পরিষ্কার করে শুকিয়ে আগুনে পুড়িয়ে জমি প্রস্তুত করার পর তারা অপেক্ষা করেন বৃষ্টির জন্য। সাধারণত চৈত্র মাসের শেষ দিকে বৃষ্টি হলে বৈশাখের শুরুতেই জুম লাগানোর কাজ শুরু করা যায়।
কিন্তু এ বছর চৈত্রের শেষদিকে বৃষ্টির দেখা না পাওয়ায় হতাশ হয়ে পড়েছিলেন জুমচাষীরা। সেই হতাশা কাটিয়ে কালবৈশাখীর সঙ্গে নামা প্রবল বৃষ্টি নতুন আশার সঞ্চার করেছে। ইতিমধ্যেই অনেক জুমচাষী জুম লাগানোর কাজে নেমে পড়েছেন, আবার অনেকেই শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
জুমচাষে সাধারণত ধানের পাশাপাশি তিল, মেষ্টা, কার্পাস, শসা, মিষ্টি কুমড়ো, মাপড়া, সিঁদ্রাই, লতা সিমসহ বিভিন্ন ধরনের শস্য ও সবজি চাষ করা হয়। এই বৃষ্টির ফলে ফলনের সম্ভাবনা বাড়বে বলে আশাবাদী জুমিয়ারা।
প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষতির মাঝেও এই বৃষ্টি জুমচাষীদের কাছে আশীর্বাদ হয়ে এসেছে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।



















