আগরতলা, ৩০ এপ্রিল: তৃণমূল স্তরের প্রশাসনে নতুন দিশা দেখিয়ে জাতীয় ‘পঞ্চায়েত প্রগতি সূচক (পিপিআই) ২.০’-এ উজ্জ্বল সাফল্য অর্জন করল ত্রিপুরা। জাতীয় পঞ্চায়েত রাজ দিবস উপলক্ষে কেন্দ্রীয় সরকার প্রকাশিত এই রিপোর্টে দেশের বিভিন্ন পঞ্চায়েতের উন্নয়নমূলক কাজের মূল্যায়নে ত্রিপুরা বিশেষভাবে নজর কাড়তে সক্ষম হয়েছে। রাজ্যের মোট ১,১৭৬টি গ্রাম পঞ্চায়েত সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়ে একাধিক উন্নয়ন সূচকে উল্লেখযোগ্য সাফল্য দেখিয়েছে।
২০২৩-২৪ অর্থবর্ষের জন্য পঞ্চায়েত রাজ মন্ত্রক প্রস্তুত করা এই প্রতিবেদনে দেখা গেছে, দেশজুড়ে ৩,৬৩৫টি পঞ্চায়েত ‘ফ্রন্ট রানার’ (গ্রেড এ) হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। পাশাপাশি ১.১৮ লক্ষেরও বেশি পঞ্চায়েত ‘পারফর্মার’ (গ্রেড বি) শ্রেণিতে রয়েছে, যা মোট অংশগ্রহণকারীর প্রায় ৪৫.৭২ শতাংশ।
ত্রিপুরার পঞ্চায়েতগুলি দারিদ্র্য দূরীকরণ, স্বাস্থ্য পরিষেবা, স্যানিটেশন ও অবকাঠামো উন্নয়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে অসাধারণ অগ্রগতি দেখিয়েছে। বিশেষভাবে সেপাহিজালা জেলার জম্পুইজলা মহকুমার জুগল কিশোর নগর পঞ্চায়েত দেশের অন্যতম সেরা পারফর্মার হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে।
এছাড়াও রাজ্যের একাধিক পঞ্চায়েত বিভিন্ন বিভাগে শীর্ষ স্থান অর্জন করেছে। শিবনগর গ্রাম পঞ্চায়েত (সেপাহিজালা) ‘দারিদ্র্যমুক্ত ও উন্নত জীবিকা’ বিভাগে ‘এ+’ পেয়েছে। পশ্চিম সরবং (গোমতী) ‘সুস্থ পঞ্চায়েত’, কাঞ্চনবাড়ি (উনকোটি) ‘শিশুবান্ধব পঞ্চায়েত’, উত্তর ধনিচড়া (উনকোটি) ‘জলসম্পদে স্বনির্ভর পঞ্চায়েত’, পশ্চিম টাকারজলা (সেপাহিজালা) ‘পরিচ্ছন্ন ও সবুজ পঞ্চায়েত’, উত্তর তাইছামা (দক্ষিণ ত্রিপুরা) ‘স্বনির্ভর অবকাঠামো’, ঠাকছড়া (গোমতী) ‘সুশাসন’ প্রতিটি ক্ষেত্রেই ‘এ+’ গ্রেড অর্জন করেছে। পাশাপাশি পাহাড়পুর (গোমতী) ‘সামাজিক সুরক্ষা’ বিভাগে ‘এ’ এবং বৈকুণ্ঠপুর (পশ্চিম ত্রিপুরা) ‘নারীবান্ধব পঞ্চায়েত’ বিভাগে ‘এ’ গ্রেড পেয়েছে।
দেশব্যাপী রিপোর্টে দারিদ্র্য হ্রাস ও স্বাস্থ্য পরিষেবায় উন্নতির ইতিবাচক চিত্র উঠে এসেছে। ‘দারিদ্র্যমুক্ত ও উন্নত জীবিকা’ বিভাগে ৩,৩১৩টি পঞ্চায়েত গ্রেড A পেয়েছে এবং ‘সুস্থ পঞ্চায়েত’ বিভাগে ১,০১৫টি পঞ্চায়েত সর্বোচ্চ ‘এ+’ অর্জন করেছে।
এবারের সূচকে অংশগ্রহণের হার ছিল ৯৭.৩০ শতাংশ, যেখানে ৩৩টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল থেকে মোট ২,৫৯,৮৬৭টি গ্রাম পঞ্চায়েত তথ্য জমা দিয়েছে, যা আগের চক্রের ৮০.৭৯ শতাংশের তুলনায় অনেক বেশি।
নতুন সংস্করণের সূচকে সংযোজিত হয়েছে উন্নত তথ্যপ্রবেশ ব্যবস্থা, গ্রামসভার বাধ্যতামূলক অনুমোদন, কেন্দ্রীয় পোর্টালের সঙ্গে স্বয়ংক্রিয় তথ্য সংযোগ এবং রিয়েল-টাইম মনিটরিং ড্যাশবোর্ড, যা স্বচ্ছতা ও নির্ভুলতা নিশ্চিত করেছে।
পঞ্চায়েত প্রগতি সূচক মূলত নয়টি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র দারিদ্র্য, স্বাস্থ্য, শিশুকল্যাণ, জল ব্যবস্থাপনা, পরিবেশ, অবকাঠামো, সামাজিক ন্যায়, প্রশাসন এবং নারী ক্ষমতায়ন এই সব দিক বিবেচনায় গ্রামীণ প্রশাসনের সামগ্রিক মূল্যায়ন করে।
প্রশাসনিক মহলের মতে, পিপিআই ২.০-এর ফলাফল পঞ্চায়েতগুলির মধ্যে প্রতিযোগিতামূলক উন্নয়নকে আরও ত্বরান্বিত করবে এবং আত্মনির্ভর ও উন্নত গ্রামীণ স্থানীয় সংস্থা গঠনের লক্ষ্যে নতুন গতি আনবে। ত্রিপুরার এই সাফল্য রাজ্যের অন্তর্ভুক্তিমূলক গ্রামীণ উন্নয়ন ও কার্যকর তৃণমূল প্রশাসনের প্রতিফলন বলেই মনে করা হচ্ছে।



















