নয়াদিল্লি, ৪ মে (আইএএনএস): পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির ক্রমাগত ভারতবিরোধী বক্তব্য দিচ্ছেন—যা আসলে জঙ্গি সংগঠনগুলিকে সক্রিয় করে তোলার কৌশল বলেই মনে করা হচ্ছে, এমনটাই উঠে এসেছে এক রিপোর্টে।
রিপোর্ট অনুযায়ী, মুনির পাকিস্তানে এই বয়ান তুলে ধরছেন যে তেহরিক-ই-তালিবান (টিটিপি) এবং বালোচিস্তান লিবারেশন আর্মি (বিএলএ)-র হামলার পিছনে ভারতের হাত রয়েছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই সমস্যাগুলি মূলত পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির ফল।
গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, এই ধরনের বক্তব্যের মাধ্যমে জইশ-ই-মহম্মদ এবং লস্কর-ই-তৈবা-র মতো জঙ্গি সংগঠনগুলিকে আরও সক্রিয় হতে উসকানি দেওয়া হচ্ছে।
‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পর থেকেই এই প্রচার আরও জোরদার হয়েছে বলে জানা গেছে। ওই অভিযানের পর জঙ্গি সংগঠনগুলি বড় ধাক্কা খেয়েছিল এবং এখন পুনর্গঠনের চেষ্টা চলছে, যদিও সেই গতি প্রত্যাশার তুলনায় ধীর।
সূত্রের দাবি, পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই এই সংগঠনগুলিকে অর্থ ও অন্যান্য সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে, তবে নেতৃত্বের মধ্যে এখনই বড় আকারে হামলা চালানোর আগ্রহ কম।
বিশ্লেষকদের মতে, ‘অপারেশন সিঁদুর’ মুনিরের জন্য বড় ধাক্কা ছিল। অভিযানের আগে তিনি ভারতের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, যা পরে বাস্তবে রূপ পায়নি। ফলে পাকিস্তানের অভ্যন্তরে তাঁর নেতৃত্ব নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
এই পরিস্থিতিতে ভারতে ‘প্রক্সি যুদ্ধ’ জারি রাখা মুনিরের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে জম্মু ও কাশ্মীর অঞ্চলে সক্রিয় জঙ্গি সংগঠনগুলির ভূমিকা এখানে উল্লেখযোগ্য।
তবে সীমান্তে কড়া নজরদারির কারণে অনুপ্রবেশের একাধিক চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে বলে জানা গেছে। ফলে এই সংগঠনগুলির মনোবল বাড়াতে এবং উত্তেজনা তৈরি করতে ভারতকে দোষারোপ করার কৌশল নেওয়া হচ্ছে বলেই মত বিশেষজ্ঞদের।
একইসঙ্গে আফগানিস্তান ইস্যুতেও মুনিরের অবস্থান চাপে পড়েছে। আফগান তালিবানের সঙ্গে সংঘাত প্রত্যাশামতো ফল দেয়নি, বরং পাকিস্তানের অভ্যন্তরেই সমালোচনা বেড়েছে। ফলে পরিস্থিতি সামাল দিতে তিনি আবারও ভারতবিরোধী অবস্থান জোরদার করছেন বলে মনে করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রেক্ষাপটে জম্মু ও কাশ্মীর অঞ্চলে বড়সড় নাশকতার চেষ্টা হতে পারে, কারণ পাকিস্তানের তরফে চাপ বাড়ছে এবং জঙ্গি সংগঠনগুলিকে সক্রিয় করার চেষ্টা চলছে।



















