নয়াদিল্লি, ৪ মে (আইএএনএস): বৈশ্বিক শেয়ারবাজার মার্চ মাসের পতনের পর এপ্রিল মাসে ঘুরে দাঁড়ালেও, বিদেশি মূলধন আকর্ষণে চীনকে ছাপিয়ে এগিয়ে গেছে ভারত—এমনটাই জানাল এক সাম্প্রতিক রিপোর্ট।
কোয়ান্ট মিউচুয়াল ফান্ড-এর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা কমে আসা এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধির ফলে এপ্রিল মাসে বৈশ্বিক বাজারে পুনরুদ্ধার দেখা গেছে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, ভারতের নামমাত্র জিডিপি বৃদ্ধির হার এখনও চীনের তুলনায় বেশি, যা দেশটিকে বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীদের কাছে আকর্ষণীয় গন্তব্য করে তুলছে।
রিপোর্টে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, বিশেষ করে স্মল-ক্যাপ শেয়ারে সাম্প্রতিক সংশোধন প্রায় শেষ পর্যায়ে এসেছে এবং কর্পোরেট আয়ের উন্নতি ভবিষ্যতে বাজারকে আরও শক্তিশালী করতে পারে।
ভারতের স্থিতিশীল আর্থিক ও মুদ্রানীতি পরিবেশ এবং পর্যাপ্ত তারল্য পরিস্থিতি ঋণ সম্প্রসারণে সহায়ক হবে এবং আর্থিক পরিষেবা খাতের সম্ভাবনা আরও উজ্জ্বল করবে বলে মনে করা হচ্ছে।
এই পরিস্থিতিকে বিনিয়োগের জন্য অনুকূল সময় হিসেবেও চিহ্নিত করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বড় মূলধনী (লার্জ-ক্যাপ) শেয়ারে বেশি জোর দিয়ে, পাশাপাশি বেছে নেওয়া মিড-ক্যাপ ও স্মল-ক্যাপ শেয়ারে সীমিত বিনিয়োগ রাখা উচিত।
খাতভিত্তিক দৃষ্টিতে শক্তি, পরিকাঠামো, আর্থিক পরিষেবা, টেলিকম, ফার্মাসিউটিক্যালস এবং ডেটা সেন্টার খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, কাঁচামালের দাম ও সরবরাহ ব্যবস্থার সমস্যার কারণে উৎপাদন (ম্যানুফ্যাকচারিং) খাতকে তুলনামূলকভাবে কম গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে, মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার অপরিবর্তিত রেখেছে। মার্কিন শেয়ারবাজার এপ্রিল মাসে প্রায় ৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ভারতের নিফটি ৫০ সূচক বেড়েছে ৬.৭ শতাংশ, যা অধিকাংশ বড় বাজারকে ছাপিয়ে গেছে। তুলনায় চীনের সাংহাই সূচক বেড়েছে ৫.৬ শতাংশ এবং জাপানের নিক্কেই ২২৫ বেড়েছে ১১.৬ শতাংশ।
৮ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র, ইজরায়েল এবং ইরানের মধ্যে হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তি (পরবর্তীতে অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়ানো হয়) বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াতে সাহায্য করেছে, যদিও ইরানের বন্দরগুলিতে মার্কিন নৌ অবরোধ বহাল ছিল।
পণ্যের বাজারে এপ্রিল মাসে সোনা ও রুপোর দাম প্রায় ৪ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে, অন্যদিকে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম প্রায় ৮ শতাংশ বেড়েছে।
ফেব্রুয়ারি ২৭ থেকে এপ্রিল ৩০-এর মধ্যে নিফটি সূচক ১,১৮১ পয়েন্ট বা ৪.৭ শতাংশ কমে ২৫,১৭৮.৬৫ থেকে ২৩,৯৯৭.৫৫-এ নেমে আসে। তবে শুধুমাত্র এপ্রিল মাসেই সূচকটি প্রায় ১,৩১৮ পয়েন্ট বা প্রায় ৬ শতাংশ বেড়ে ২২,৬৭৯.৪০ থেকে ২৩,৯৯৭.৫৫-এ পৌঁছেছে।



















