পাটনা, ৪ মে (আইএএনএস): ভাগলপুরে বিক্রমশীলা সেতু-র একটি অংশ ভেঙে পড়ার ঘটনার পর দ্রুত তৎপর হয়েছে বিহার সরকার। প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়ার পাশাপাশি দ্রুত মেরামতির জন্য কেন্দ্রীয় সহায়তা ও সেনাবাহিনীর সাহায্য চাওয়া হয়েছে।
এই ঘটনায় গাফিলতির অভিযোগে সড়ক নির্মাণ দপ্তরের এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ারকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং এবং সেনার শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন।
সোমবার ভোররাতে, প্রায় ১২টা ৫০ মিনিট নাগাদ, ৪.৭ কিলোমিটার দীর্ঘ সেতুটির পিলার নম্বর ১৩৩-এর কাছে প্রায় ৩৩ মিটার অংশ গঙ্গা নদীতে ভেঙে পড়ে। আগাম সতর্কতা হিসেবে প্রশাসন যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়ায় বড়সড় দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
ঘটনার সময় সেতুর উপর বেশ কয়েকটি যানবাহন ছিল বলে জানা গেছে, তবে সেগুলিকে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়।
খবর পেয়ে ভাগলপুরের জেলা শাসক নবল কিশোর চৌধুরী ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন। জননিরাপত্তার স্বার্থে সেতুতে সম্পূর্ণ যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। সেতুর দুই প্রান্তে ব্যারিকেড বসানো হয়েছে এবং ক্ষয়ক্ষতি খতিয়ে দেখতে বিশেষজ্ঞ দল ডাকা হয়েছে।
এই সেতু উত্তর ও দক্ষিণ বিহারের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগের মাধ্যম। ফলে সীমাঞ্চল অঞ্চলসহ মোট ১৬টি জেলার যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছে এবং প্রতিদিন প্রায় ১ লক্ষ মানুষের যাতায়াত প্রভাবিত হচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত এক দশকে এই সেতুর তিনবার মেরামত হয়েছে, সর্বশেষ রক্ষণাবেক্ষণ কাজ হয় ২০২৬ সালের মার্চ মাসে। তবুও আবার সেতুর অংশ ভেঙে পড়ায় নির্মাণের গুণমান ও তদারকি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
সরকারের দ্রুত পদক্ষেপে পরিস্থিতি আপাতত নিয়ন্ত্রণে এলেও, এই ঘটনা বিহারের পরিকাঠামোর মান এবং দীর্ঘমেয়াদি রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।



















