বালুরঘাট, ৪ মে (আইএএনএস): পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রাথমিক গণনার প্রবণতায় বিজেপি এগিয়ে থাকার ইঙ্গিত মিলতেই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার সোমবার দাবি করেছেন, রাজ্যে বড় রাজনৈতিক পরিবর্তনের সূচনা হয়েছে এবং ‘রাম রাজ্য’ প্রতিষ্ঠিত হতে চলেছে।
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, “এটা তো সবে শুরু। মাত্র দুই-তিন দফা গণনা শেষ হয়েছে, পোস্টাল ব্যালটও গোনা হয়েছে। তবে প্রাথমিক প্রবণতা স্পষ্টভাবে জানাচ্ছে যে বিজেপি সরকার গঠনের সম্ভাবনা প্রবল। বাংলায় ‘রাম রাজ্য’ প্রতিষ্ঠিত হবে।”
এদিকে, খড়গপুর সদর কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী দিলীপ ঘোষ জানান, গণনার জন্য সব রকম প্রস্তুতি সম্পূর্ণ রয়েছে।
তিনি বলেন, “সরকার, নির্বাচন কমিশন এবং আমাদের দলের পক্ষ থেকে সমস্ত প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। মানুষের ভোট দেওয়ার ধরনই ইঙ্গিত দিচ্ছে যে পরিবর্তন আসছে।”
তিনি আরও জানান, গণনা কেন্দ্রগুলিতে কড়া নিরাপত্তা মোতায়েন করা হয়েছে যাতে কোনও রকম অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে। “কেবল পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীই চোখে পড়ছে। কেউ গোলমাল করার চেষ্টা করলে তা মোকাবিলার জন্য যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে,” বলেন তিনি।
অন্যদিকে, দক্ষিণ কলকাতার ভবানীপুর কেন্দ্রের হাই-প্রোফাইল লড়াইয়ে বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী প্রাথমিক প্রবণতায় এগিয়ে রয়েছেন। দুই দফা গণনার পর তিনি ১,৫৫৮ ভোটে এগিয়ে। পাশাপাশি পূর্ব মেদিনীপুর জেলার নন্দীগ্রাম কেন্দ্রেও তিনি ৭,৬৯৮ ভোটে এগিয়ে রয়েছেন।
মিডিয়ার সামনে অধিকারী বলেন, “বিজেপিই সরকার গঠন করছে। প্রাথমিক প্রবণতায় আমরা ১৩৫-র বেশি আসনে এগিয়ে, তৃণমূল কংগ্রেস ১০০-র কিছু বেশি আসনে এগিয়ে। ভবানীপুরে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে। আমাকে এগিয়ে রাখার জন্য হিন্দু ভোটারদের ধন্যবাদ জানাই। রাজ্যে অ্যান্টি-ইনকাম্বেন্সি কাজ করেছে।”
উল্লেখ্য, ২০২১ সালে নন্দীগ্রামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-কে ১,৯৫৬ ভোটে পরাজিত করেছিলেন অধিকারী।
সোমবার ভোটগণনার প্রথম কয়েক ঘণ্টায় শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপির মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের ছবি সামনে এসেছে, যদিও সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে বিজেপি। প্রথম তিন ঘণ্টার গণনার শেষে বিজেপি ১২৭টি আসনে এগিয়ে, তৃণমূল কংগ্রেস এগিয়ে ৮৭টি আসনে।
কংগ্রেস এখনও কোনও আসনে এগোতে পারেনি, অন্যদিকে সিপিআই(এম)-নেতৃত্বাধীন বামফ্রন্ট একটি আসনে এগিয়ে রয়েছে। মুর্শিদাবাদের রেজিনগর কেন্দ্রে এজেইউপি চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর এগিয়ে রয়েছেন।
জানা গেছে, প্রতিটি কেন্দ্রে ভোটারের সংখ্যার ভিত্তিতে সর্বনিম্ন ১০ দফা এবং সর্বোচ্চ ২৬ দফা পর্যন্ত গণনা চলবে।



















