নদিয়া, ২৯ এপ্রিল (আইএএনএস): পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ চলাকালীন নদিয়ার চাপড়া এলাকায় বুথ নম্বর ৫৩-তে এক বিজেপি পোলিং এজেন্টের উপর নৃশংস হামলার অভিযোগ উঠেছে, যা ফের ভোট-হিংসা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
আক্রান্ত পোলিং এজেন্ট মোশারাফ মীর জানিয়েছেন, ভোর প্রায় ৫টা ৪০ মিনিট নাগাদ তিনি বুথে যাওয়ার পথে এই হামলার শিকার হন। তাঁর দাবি, “আমি বুথে যাচ্ছিলাম যাতে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করা যায়। সেই সময় কিছু তৃণমূল কংগ্রেস-এর দুষ্কৃতী জন আলি মোল্লার বাড়িতে লুকিয়ে ছিল। হঠাৎ ১৫-২০ জন লাঠি, রড ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে বেরিয়ে আসে এবং আমার মাথায় রড দিয়ে আঘাত করে। আমি পড়ে যাই, তবুও মারধর চালিয়ে যায়। সেখানে চারজন আইএসএফ এজেন্টও ছিলেন, তাঁদেরও মারধর করা হয়।”
ঘটনার পর অভিযুক্তরা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়। আহত অবস্থায় মীরকে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়।
এদিকে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় ভোট-সংক্রান্ত হিংসা ও সংঘর্ষের খবর সামনে আসছে। বিশেষ করে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলায় অশান্তি বেশি বলে জানা যাচ্ছে।
ভাঙড়ের সাইহাটি এলাকায় অল ইন্ডিয়া সেকুলার ফ্রন্ট নেতা মদন নওশাদ সিদ্দিকী-কে ঘিরে তৃণমূল কর্মীদের বিক্ষোভে উত্তেজনা ছড়ায়। পরে কেন্দ্রীয় বাহিনী হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
বসন্তীতে বিজেপি প্রার্থী বিকাশ সরদার-এর উপর হামলা ও গাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। অন্যদিকে উত্তর ২৪ পরগনার সাসনে ভোটারদের ভয় দেখানোর অভিযোগকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ হয়।
হুগলির খানাকুলে রামচন্দ্রপুর এলাকায় বুথের সামনে AISF ও তৃণমূল কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। অভিযোগ, ভুয়ো নথি দিয়ে পোলিং এজেন্ট বসানো হয়েছে এবং বিরোধী এজেন্টদের বুথে ঢুকতে বাধা দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া হাওড়ার বালিতে ইভিএম বিকল হওয়ায় উত্তেজনা তৈরি হলে কেন্দ্রীয় বাহিনী লাঠিচার্জ করে। এতে কংগ্রেস ও তৃণমূলের পোলিং এজেন্টরা আহত হন। ঘটনায় দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
সমগ্র পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশন।
–আইএএনএস



















