বেহালা, ২৭ এপ্রিল (আইএএনএস): পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘ভাড়া করা সমর্থক’ আনার অভিযোগকে সরাসরি খারিজ করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তিনি বলেন, এত বড় জনসমাগম বাইরে থেকে আনা সম্ভব নয় এবং এই ধরনের অভিযোগের কোনও ভিত্তি নেই।
মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগের জবাবে শাহ বলেন, “এই ভিড়টা দেখান তো। এত মানুষ কি বাইরে থেকে আসতে পারে?” পাশাপাশি তিনি মন্তব্য করেন, “ক্যা ইয়ার, আপনি-ও কি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথা শুনছেন?”, অর্থাৎ এই ধরনের দাবি গুরুত্ব দেওয়ার মতো নয় বলেই ইঙ্গিত দেন তিনি।
উল্লেখ্য, গত ৫ এপ্রিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেছিলেন, বিজেপি অন্য রাজ্য থেকে লোক এনে এবং টাকা দিয়ে সমর্থকদের সভায় জড়ো করছে, যাতে চলতি বিধানসভা নির্বাচনে প্রভাব ফেলা যায়।
আইএএনএস-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অমিত শাহ আরও বলেন, বিজেপি এই নির্বাচনে বড় ব্যবধানে জয়লাভ করবে। তাঁর কথায়, “আমরা বড় সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে এই নির্বাচন জিতব।”
বিজেপি ও তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের খবর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “কোনও সংঘর্ষই নেই; নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবেই হচ্ছে। যারা আগে বাংলার নির্বাচন কভার করেছেন, তারা জানেন প্রতি নির্বাচনে কত মানুষ মারা যেত।”
অন্যদিকে, উত্তর ২৪ পরগনার জগতদলে রবিবার রাতে দুই দলের কর্মীদের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষের ঘটনা সামনে এসেছে। ইটবৃষ্টি, গুলি ও তাজা বোমা ব্যবহারের অভিযোগে একাধিক ব্যক্তি আহত হন। অন্তত তিনজন জখম হন এবং কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর (সিএপিএফ) এক জওয়ান গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জলেবি মাঠের সভার পোস্টার ও পতাকা সরানো নিয়ে বিজেপি কর্মীদের অভিযোগের জেরে থানার কাছে এই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।
এদিকে, ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার প্রচার জোরকদমে চলছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ভোটারদের আকর্ষণ করতে সভা, রোডশো ও জনসংযোগ বাড়িয়েছে।
প্রথম দফার ভোটগ্রহণে ২৩ এপ্রিল রাজ্যে ৯২.০৩ শতাংশ ভোট পড়েছে, যা ১৯৫১ সালের পর সর্বোচ্চ। কিছু বিচ্ছিন্ন অশান্তির ঘটনা ঘটলেও সামগ্রিকভাবে ভোটগ্রহণ সফলভাবেই সম্পন্ন হয়েছে।


















