কলকাতা, ১৮ এপ্রিল (আইএএনএস):
পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে ‘শ্যাডো জোন’ হিসেবে চিহ্নিত বুথগুলিতে ভোটগ্রহণের সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া ভিডিও রেকর্ড করতে বিশেষজ্ঞ ভিডিওগ্রাফার নিয়োগ করল নির্বাচন কমিশন।
কমিশনের সংজ্ঞা অনুযায়ী, যেসব এলাকায় মোবাইল নেটওয়ার্ক ও ইন্টারনেট সংযোগ অত্যন্ত দুর্বল, সেগুলিকেই ‘শ্যাডো জোন’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর ফলে ওইসব এলাকায় অনলাইন নজরদারি চালানো কঠিন হয়ে পড়ে।
কমিশন সূত্রে জানা গেছে, নিযুক্ত পেশাদার ভিডিওগ্রাফারদের সঙ্গে কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিরাপত্তা থাকবে, যাতে কোনওভাবেই ভিডিওগ্রাফির কাজে বিঘ্ন না ঘটে। এই ভিডিও রেকর্ডিং পর্যায়ক্রমে কাছাকাছি ‘নন-শ্যাডো জোন’ থেকে অনলাইনের মাধ্যমে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তথা জেলা নির্বাচনী আধিকারিকদের কন্ট্রোল রুম এবং কলকাতায় প্রধান নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরে পাঠানো হবে।
এই ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে কমিশনের পর্যবেক্ষকরা সিদ্ধান্ত নেবেন, কোনও বুথে পুনর্নির্বাচন প্রয়োজন কিনা।
রাজ্যের প্রধান নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর সূত্রে খবর, প্রাথমিকভাবে মোট ৬২৫টি ‘শ্যাডো জোন’ চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রথম দফার ভোটগ্রহণে (২৩ এপ্রিল) এই জোনগুলির অধিকাংশই রয়েছে পাহাড়ি জেলা দার্জিলিং ও কালিম্পং-এ। এছাড়াও জঙ্গলমহল এলাকার বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, পশ্চিম মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রাম জেলাতেও এই ধরনের বুথ রয়েছে।
দ্বিতীয় দফার ভোটে এই ‘শ্যাডো জোন’-এর একটি বড় অংশ থাকবে সুন্দরবন সংলগ্ন দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার ঘন অরণ্য এলাকায়।
কমিশনের প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী, অতীতের নির্বাচনে বুথ দখল, ভোটারদের ভয় দেখানো এবং ভোটগ্রহণে বিঘ্ন ঘটানোর মতো অনিয়মের ঘটনা সবচেয়ে বেশি ঘটেছে এই ‘শ্যাডো জোন’গুলিতেই।
এদিকে, শুক্রবার নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে যে এবারের দুই দফার নির্বাচনে গণনাকেন্দ্রের সংখ্যা কমিয়ে ৮৭ করা হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ১২টি কেন্দ্র রয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনায়, এরপর উত্তর ২৪ পরগনায় ৮টি এবং হুগলিতে ৬টি। অন্যদিকে কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার এবং ঝাড়গ্রাম-এ রয়েছে মাত্র একটি করে গণনাকেন্দ্র।



















