নয়াদিল্লি, ১৮ এপ্রিল (আইএএনএস): ভারতে দীর্ঘদিন ধরেই অবৈধ অনুপ্রবেশ একটি বড় সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে। বিশেষত বাংলাদেশ ও মায়ানমার থেকে আসা বহু অনুপ্রবেশকারী দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বসবাস করছে। কেন্দ্র সরকারের নতুন নীতিতে সমস্ত রাজ্যকে এই ধরনের অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে বহিষ্কারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গোয়েন্দা সংস্থার মতে, দেশজুড়ে এই ধরনের অভিযান জোরদার হওয়ায় জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত বহু অবৈধ অনুপ্রবেশকারীকে আন্ডারগ্রাউন্ডে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এদের অনেককেই ভারতে পাঠানো হয়েছিল সন্ত্রাসমূলক কার্যকলাপে অংশ নেওয়ার উদ্দেশ্যে।
সূত্রের খবর, এরা সাধারণত শ্রমিক সেজে জনবহুল এলাকায় মিশে থাকে এবং গোপনে তথ্য সংগ্রহ করে। বাসস্ট্যান্ড, রেলস্টেশন ও ভিড়যুক্ত বাজার এলাকায় নজরদারি চালানোই এদের প্রধান কাজ। তদন্তে উঠে এসেছে, এদের একটি বড় অংশ হরকত-উল-জিহাদি ইসলামি (HuJI) অথবা জামাত-উল-মুজাহিদিন বাংলাদেশ (JMB)-এর সঙ্গে যুক্ত। এই সংগঠনগুলির কার্যকলাপ মূলত পশ্চিমবঙ্গ, উত্তর-পূর্ব ভারত এবং দক্ষিণ ভারতের কিছু অঞ্চলে বিস্তৃত।
এক আধিকারিক জানিয়েছেন, এই ধরনের অনুপ্রবেশকারীদের অনেক সময় কেরল বা তামিলনাড়ু-তে রাখা হয়, যেখানে বাংলা ভাষাভাষী মানুষের বসতি রয়েছে। ফলে তারা সহজেই ভিড়ে মিশে যেতে পারে।
গোয়েন্দা সূত্রে আরও জানা গেছে, এরা অত্যন্ত নিচু প্রোফাইল বজায় রেখে কাজ করে এবং নিয়মিত নয়, বরং সপ্তাহে একবার বা পনেরো দিনে একবার তথ্য সংগ্রহের কাজ চালায়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তারা বৈধভাবে বসবাসকারী ব্যক্তিদের সঙ্গে দল বেঁধে এই কাজ করে, যাতে সন্দেহ এড়ানো যায়।
অধিকারিকদের মতে, তথ্য সংগ্রহকারী এই ব্যক্তিদের সাধারণত হামলার কাজে ব্যবহার করা হয় না। বরং সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে পরিকল্পনা করে পরে প্রশিক্ষিত জঙ্গিদের ভারতে পাঠানো হয়।
সম্প্রতি গোয়েন্দা সংস্থাগুলি লক্ষ্য করছে যে, এই ধরনের বহু ব্যক্তি হঠাৎ করেই আন্ডারগ্রাউন্ডে চলে গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, নজরদারি বাড়ায় তাদের এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিশেষত পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচনের সময় হামলার পরিকল্পনা থাকলেও বর্তমানে কড়া নজরদারির কারণে তারা অপেক্ষার কৌশল নিয়েছে।
সন্ত্রাসবাদ বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিস্থিতি এখনই নিয়ন্ত্রণে না আনলে ভবিষ্যতে এটি দেশের জন্য বড় নিরাপত্তা সংকট তৈরি করতে পারে।
এদিকে, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক সব রাজ্যকে প্রতিটি জেলায় বিশেষ টাস্ক ফোর্স গঠনের নির্দেশ দিয়েছে। ইতিমধ্যেই দেশজুড়ে যাচাই অভিযানে ৪,০০০-রও বেশি অবৈধ অনুপ্রবেশকারীকে চিহ্নিত করে বহিষ্কার করা হয়েছে বলে জানা গেছে।



















