মুম্বই, ১৪ এপ্রিল (আইএএনএস): উন্নয়ন মানেই কেবল রাস্তা, ফ্লাইওভার বা পরিকাঠামো নয়—তা তৃণমূল স্তর পর্যন্ত পৌঁছাতে হলে ড. বি.আর. আম্বেদকর-এর সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গির প্রয়োজন বলে মন্তব্য করলেন রাজ ঠাকরে।
মঙ্গলবার ড. বি.আর. আম্বেদকর-এর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে উন্নয়নের ধারণা অনেকটাই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে রাস্তা, ফ্লাইওভার ও পরিকাঠামোর মধ্যে, যার সুফল দেশের বড় অংশের মানুষ পায় না।
তিনি বলেন, “আজ বাবাসাহেবের মতো একজন বিশাল ব্যক্তিত্বের অভাব আমরা বারবার অনুভব করি, যাঁর ছিল গভীর সামাজিক ও অর্থনৈতিক বোধ এবং একটি সর্বাঙ্গীন দৃষ্টিভঙ্গি।”
মহারাষ্ট্র নবনির্মাণ সেনা (এমএনএস) প্রধান আরও বলেন, শুধুমাত্র মহান ব্যক্তিত্বদের মূর্তি নির্মাণ করলেই তাঁদের প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা জানানো হয় না। ছত্রপতি শিবাজী মহারাজ, মহাত্মা জ্যোতিবা ফুলে, বল গঙ্গাধর তিলক, বিনায়ক দামোদর সাভারকর-সহ বহু নেতাকে শুধুমাত্র আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হচ্ছে।
তিনি অভিযোগ করেন, জাত-ধর্মের ভিত্তিতে বিভাজন তৈরি করা হচ্ছে এবং নেতাদের জন্ম-মৃত্যুদিনে শুধু শোভাযাত্রা বা উচ্চস্বরে সঙ্গীত বাজানোতেই গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, যা তাঁদের আদর্শকে অবমূল্যায়ন করছে।
রাজ ঠাকরে আরও বলেন, “রাজ্য ও রাজনীতিকরা যখন এই ক্ষুদ্র বিষয়গুলির ঊর্ধ্বে উঠতে পারবে, তখনই প্রকৃত অর্থে এই মহান ব্যক্তিত্বদের সম্মান জানানো সম্ভব হবে। না হলে তাঁদের আদর্শ শুধু মালা পরানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে।”
অর্থনীতি প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, “আজ যখন বিশ্ব ও দেশীয় পরিস্থিতির কারণে রুপির মান দুর্বল হচ্ছে, তখন আমরা বাবাসাহেবকে শুধু সমাজ সংস্কারক নয়, একজন প্রখর অর্থনীতিবিদ হিসেবেও স্মরণ করি।” তিনি রুপির সমস্যা: এর উৎপত্তি ও সমাধান-এর উল্লেখ করে বলেন, এই গ্রন্থে ব্রিটিশ নীতির কারণে কীভাবে রুপির অবমূল্যায়ন হয়েছিল এবং সাধারণ মানুষের উপর তার প্রভাব পড়েছিল, তা বিশদভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতা সংগ্রামের নেতারা শুধু দেশের স্বাধীনতাই চাননি, বরং সেই স্বাধীনতার সুফল সমাজের তৃণমূল স্তর পর্যন্ত পৌঁছাক, সেটাই ছিল তাঁদের লক্ষ্য।
শেষে তিনি বলেন, “ভারতীয় সংবিধানের রচয়িতা হিসেবে বাবাসাহেবের অবদান অনন্য। আগামী প্রজন্মও তাঁর কাছে চিরঋণী থাকবে।”



















