নয়াদিল্লি, ৬ এপ্রিল(আইএএনএস): এ মাসে চারটি রাজ্য ও একটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে অনুষ্ঠিত হতে চলা বিধানসভা নির্বাচনে দেশের একসময়ের দুই শক্তিশালী রাজনৈতিক শক্তি—ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস এবং বাম দলগুলি—অস্তিত্ব রক্ষার কঠিন লড়াইয়ের মুখে পড়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও বিভিন্ন রিপোর্ট অনুযায়ী, তামিলনাড়ু এবং পশ্চিমবঙ্গ—এই দুই গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যে কংগ্রেস বা বাম দলগুলির এককভাবে ক্ষমতায় ফেরার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ।
তামিলনাড়ুতে তারা শাসক দ্রাবিড় মুন্নেত্র কাঝগম-এর জোটসঙ্গী হিসেবে লড়ছে। অন্যদিকে পশ্চিমবঙ্গে কোনও দলই প্রধান শক্তি হিসেবে উঠে আসার অবস্থায় নেই।
তবে কিছুটা সম্ভাবনা রয়েছে কেরল ও অসম-এ। কেরলে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউনাইটেড ডেমোক্র্যাটিক ফ্রন্ট এবং বামেদের লেফট ডেমোক্র্যাটিক ফ্রন্ট—এই দুই জোটের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই ক্ষমতার পালাবদল হয়েছে।
কমিউনিস্ট পার্টি অব ইন্ডিয়া (মার্কসবাদী) নেতৃত্বাধীন এলডিএফ ১৯৮০, ১৯৮৭, ১৯৯৬, ২০০৬, ২০১৬ এবং ২০২১ সালে জয় পেয়েছে। বিশেষত ২০২১ সালে টানা দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় ফিরে ৪০ বছরের রেওয়াজ ভেঙেছিল তারা।
অন্যদিকে, কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউডিএফ ১৯৮২, ১৯৯১, ২০০১ এবং ২০১১ সালে জয়ী হয়েছে। ফলে আগামী ৪ মে ফলাফল নির্ধারণ করবে এলডিএফ কি টানা তৃতীয়বার ক্ষমতায় ফিরতে পারবে, নাকি ইউডিএফ প্রত্যাবর্তন ঘটাবে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কংগ্রেস একাধিক রাজ্যে ধাক্কা খেয়েছে—ছত্তিশগড়, রাজস্থান-এ ক্ষমতা হারানো থেকে শুরু করে হরিয়ানা ও মহারাষ্ট্র-এ পরাজয়—সব মিলিয়ে দলটি কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। এমনকি দিল্লি-তেও তারা উল্লেখযোগ্য ফল করতে পারেনি।
দলের পুনরুত্থানের প্রচেষ্টায় সামনে রয়েছেন রাহুল গান্ধী এবং প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। ফলে এই নির্বাচনে ভালো ফল করা দলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বামেদের ক্ষেত্রেও পরিস্থিতি একই রকম চ্যালেঞ্জপূর্ণ। পশ্চিমবঙ্গ ও ত্রিপুরা-তে ক্ষমতা হারানোর পর কেরলই তাদের শেষ শক্ত ঘাঁটি হিসেবে রয়ে গেছে।
অন্যদিকে অসমে মূল লড়াই হচ্ছে ভারতীয় জনতা পার্টি নেতৃত্বাধীন জোট এবং কংগ্রেসের মধ্যে। কংগ্রেস এখানে পুনরুজ্জীবনের আশায় লড়াই করছে, যেখানে গৌরব গগৈ-এর নেতৃত্বে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা চলছে।
তবে দলত্যাগ, সাংগঠনিক দুর্বলতা এবং সংখ্যালঘু ভোটে বিভাজন—বিশেষত বদরুদ্দিন আজমল-এর নেতৃত্বাধীন অল ইন্ডিয়া ইউনাইটেড ডেমোক্র্যাটিক ফ্রন্ট-এর সঙ্গে জোট ভাঙার প্রভাব—কংগ্রেসের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সব মিলিয়ে, আসন্ন নির্বাচন কংগ্রেস ও বাম দলগুলির ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান নির্ধারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে।



















