নয়াদিল্লি, ৫ এপ্রিল(আইএএনএস): প্রাক্তন উপপ্রধানমন্ত্রী ও বিশিষ্ট সমাজসংস্কারক বাবু জগজীবন রামের জন্মবার্ষিকীতে তাঁকে শ্রদ্ধা জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। রবিবার সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি বলেন, দেশের প্রতি তাঁর অমূল্য অবদান সর্বদা স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
১৯০৮ সালের ৫ এপ্রিল জন্মগ্রহণকারী বাবু জগজীবন রাম ছিলেন একজন বিশিষ্ট দলিত নেতা, স্বাধীনতা সংগ্রামী এবং প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে তাঁর জন্মদিন ‘সমতা দিবস’ হিসেবে পালিত হয়।
এক্স-এ পোস্ট করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “প্রাক্তন উপপ্রধানমন্ত্রী বাবু জগজীবন রাম জিকে তাঁর জন্মবার্ষিকীতে বিনম্র শ্রদ্ধা। তিনি সারাজীবন সমতা ও সামাজিক ন্যায়ের জন্য নিজেকে উৎসর্গ করেছেন। দেশের প্রতি তাঁর অমূল্য অবদান সর্বদা স্মরণীয় হয়ে থাকবে।”
এদিন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ তাঁকে “সামাজিক ন্যায়ের পথপ্রদর্শক” বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, বাবু জগজীবন রাম সারাজীবন জাতীয় সেবা ও সামাজিক ন্যায় প্রতিষ্ঠায় নিজেকে নিবেদিত রেখেছিলেন এবং বঞ্চিত ও দুর্বল শ্রেণির অধিকার রক্ষায় তাঁর সংগ্রাম চিরকাল অনুপ্রেরণা জোগাবে।
কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে.পি. নাড্ডা-ও তাঁকে শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, সমাজের পিছিয়ে পড়া ও বঞ্চিত মানুষের উন্নয়নে তাঁর ভূমিকা অনন্য।
একইভাবে প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং বলেন, সামাজিক ন্যায় ও দেশের প্রতিরক্ষা ছিল তাঁর জীবনের প্রধান অগ্রাধিকার। দেশের উন্নয়ন ও সুরক্ষায় তাঁর অবদান সর্বদা স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
উল্লেখ্য, বাবু জগজীবন রাম ছিলেন অস্পৃশ্যতা প্রথা বিলোপ ও সমতার জোরালো প্রবক্তা। ১৯৩৫ সালে তিনি ‘অল ইন্ডিয়া ডিপ্রেসড ক্লাসেস লীগ’ সহ-প্রতিষ্ঠা করেন। ছাত্রজীবনে বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয় ও কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়-এ পড়াকালীন জাতিভিত্তিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তোলেন।
পরে ১৯৩৭ সালে বিহার বিধানসভায় নির্বাচিত হয়ে গ্রামীণ শ্রমিকদের সংগঠিত করেন। ১৯৪৬ থেকে ১৯৫০ পর্যন্ত সংবিধান সভার সদস্য হিসেবে তফসিলি জাতি ও উপজাতির জন্য শিক্ষা, চাকরি ও আইনসভায় সংরক্ষণ ব্যবস্থার অন্তর্ভুক্তিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।



















